ফেরেশতার গতি এবং আপেক্ষিকতার কাল দীর্ঘায়ন

সকালবেলা সূরা মা’আরিজ পড়তেছিলাম, হঠাৎ চোখ আটকে গেলো।
আয়াত:
৪) “ফেরেশতাগণ এবং রূহ আল্লাহর সমীপে আরোহন করে যায় এমন ‘একদিনে’ যার পরিমাণ ‘পঞ্চাশহাজার বছর’।
৫) অতএব,তুমি (রাসুল সা:) সবর করো উত্তম সবর।
৬) তারা ঐদিনকে দূরবর্তী দেখছে
৭) আর আমরা দেখছি তা নিকটবর্তী “
ওয়েইট! পদার্থবিজ্ঞান বইটা নিলাম।
সময়ের আপেক্ষিকতা (রিলেটিভিটি অভ টাইম) এর সূত্রটা বের করলাম।
T=t/sqrt(1-vv/cc)
এখন এই সূত্রে মান আয়াতে দেওয়া গুলো বসাই।
T= 50000 year = 18250000 দিন
t= 1 দিন
c = 310^8 m/s মানগুলো সমীকরণে বসিয়ে ক্যালকুলেশন করলাম। তখন, v= ফেরেশতা বা রূহ এর গতি বের হলো সেকেন্ডে তিন লক্ষ কিলোমিটার বা 310^8 m/s যা আলোরবেগের সমান ।
(আপনিও ক্যালকুলেটর নিয়ে সুত্রে মানগুলো বসিয়ে হিসেব করতে পারেন)
অর্থাৎ,
v = c হয়ে যায়। (ফেরেশতার গতি আলোর গতির সমান হয়ে যায় *টীকা১ )

ফিজিক্সের ভাষায় এখানে ‘সময় দীর্ঘায়ন ‘ এর ঘটনাটি ঘটেছে।
অর্থাৎ পৃথিবীর হিসাবে ৫০০০০ বছর বা ৫০০০০*৩৬৫ দিন =১৮২৫০০০০ দিন
এই সময়টার কালদীর্ঘায়নের কারণে ১ দিনে পরিণত হয়।

১ দিন = ১৮২৫০০০০ দিন , তখনই হয় যখন রকেট বা অন্যকিছুর গতি ৩*১০^৮ মিটার/সেকেন্ড হয়। কিন্তু রকেট বা কোন পার্টিকল এর গতি আলোর সমান হতে পারেনা, এটা আমরা জানি । এর মানে, ফেরেশতা কোন বস্তু বা পার্টিকেল দিয়ে তৈরি নয় *টীকা-২*

মানে, উপরের ক্যাল্কুলেশন থেকে দেখা যায়, ফেরেশতা আর রূহ আলোর গতিতে চলতে পারে!

আল্লাহ বলছেনও, “তারা ঐদিনকে দূরবর্তী দেখছে, আর আমরা দেখছি নিকটবর্তী ” অর্থাৎ আমাদের কাছে ৫০ হাজার বছরের সমান লম্বা একটা সময় মনে হলেও, ফেরেশতার কাছে সেটা মাত্র ১ দিনের সমান।

কাল দীর্গায়নের সূত্র এখানে মিলে গেলো!

পরের আয়াতে পেলাম
৮)”সেদিন (মহাপ্রলয়ের দিন) আসমান হয়ে যাবে গলিত ধাতুর মতো।
৯) আর পর্বতসমূহ হয়ে যাবে ধুনা পশমের মতো। “
১০) আর সেদিন কোন বন্ধু কোন বন্ধুকে জিজ্ঞেসও করবে না।
১১) যদিও উহাদেরকে করা হবে একে অপরের দৃষ্টির অগোচর। “
১১ নম্বর আয়াতটা আরো বেশি চমৎকার
কয়েকদিন আগেই ক্রিস্টোফার নোলানের ‘Interstellar’ মুভি টা দেখছিলাম। দৃষ্টি অগোচর এর ব্যাপার টা ‘Another Dimension’ এর ধারণা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকবে, কিন্তু দেখবে না কেউ কাউকেই।
মুভিতে কুপার, রোবটটিকে না দেখার, কিন্তু কথা বলার ব্যাপার টি মনে আছে?
এখানেও সেইম,
বন্ধু অপর বন্ধুকে জিজ্ঞেস করবে না, কিন্তু জিজ্ঞেস করার ক্ষমতা থাকবে। কিন্তু একে অপরের দৃষ্টি অগোচর থাকবে।
মানে দেখবে না, কিন্তু কথা বলতে পারবে। অনেকটা অদৃশ্য জগতের সাথে কথা বলার মতো। ৯ আর ১০ নং আয়াতের সাথে হাইপোথিসিস টা বরাবর মিলে যাচ্ছে
এছাড়াও ৮ নং আয়াতে মহাবিশ্ব পরিণতিতে ‘Melted Metal Like ‘ হওয়ার কথা,
৯ নং আয়াতে ‘Gravity Troubles’ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়।
১৪০০ বছর আগে হেরা নামক গুহা বা গর্তের ভেতরে কী অসাধারণ একটা জিনিস আল্লাহ পাঠাইসেন! এটা তো জীবনবিধান, তবুও এত সাইন্টিফিক!
সুবহানআল্লাহ
আমার ইন্টারপ্রিটেশন কতটুকু সত্যি জানিনা! কিন্তু মাত্র ৪-১১ আয়াতে এত জিনিস একসাথে পাবো! ভাবিনি।
অবাক হয়ে বলতে হয়, পড়েছি অনেককিছুই! কিন্তু এভাবে তো ভেবে দেখি নি!

এখানে,
১। একটা প্রশ্ন আসতে পারে, কোনো ফিজিক্যাল এনটিটির গতি 3*10^8 হতে পারে না, মানে, ফেরেশতা কোন পার্টিকল/বস্তুগত না; বরং ফেরেশতারা নুর (আলো) এর তৈরী এইটা ইন্টারপ্রেট করা যায়, আর রুহ কে যেহুতু জীবনীশক্তি বলা হয় আর আলোর বেগে চললে তা শক্তি অবশ্যই।

২। অনেকে বলবে v=c হলে টাইম ইনফিনিট হয়ে যাবে।
কিন্তু ব্যাপারটা এরকম, ক্যাল্কুলেশনের এক পর্‍্যায়ে এমন হবে (v/c)”2 =1-x; x এর মান শুন্যের কাছাকাছি আসবে। তখন এটাকে এ্যাভয়েড করলেই v=c চলে আসে।

২০১৬ ; ছাকিবুর রাহাত

তথ্য কণিকা

A Poor Servant of Almighty🙂

Posted in পবিত্র কুরআন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Translate
ব্লগ বিভাগ
রেফার লিঙ্কঃ

হ্যালো! এই লিংক থেকে বিকাশ অ্যাপ ডাউনলোড করে, প্রথমবার লগ ইন করুন। আপনি চলমান প্রথম অ্যাপ লগ ইন বোনাসের সাথে ২০টাকা এক্সট্রা বোনাস পাবেন। শর্ত প্রযোজ্য। ডাউনলোডঃ

https://www.bkash.com/app/?referrer=uuid%3DC1DPI569J

 

 

ব্লগ সংকলন
Follow Aimnote.TK on WordPress.com
%d bloggers like this: