স্পেস টাইম

স্পেস-টাইম!

স্পেস-টাইম হলো একটা ফীল্ড। যাতে মধ্যাকর্ষন কাজ করে। ত্রিমাত্রিক স্থানের সাথে সময়কে চতুর্থ মাত্রা হিসেবে যোগ করে যে ফীল্ড তৈরি হয় তাই স্পেস-টাইম। ধরুন আপনাকে বলা হলো পৃথিবীর ৯০ দ্রাঘিমাংশ এবং ২২.৫ অক্ষাংশ লোকেশনে যে ভবনটি আছে তার দ্বিতীয় তলায় আমার সাথে দেখা করবেন। সুতরাং আপনি আমার x, y and z or, দৈর্ঘ্য (ডান, বাম) প্রস্থ (সামনে, পেছনে) এবং উচ্চতা (উপর, নীচ) অবস্থান জানতে পারলেন। কিন্তু কখন আমি সেখানে অবস্থান করবো সেটাও জানা জরুরি। কারণ সময়ের সাথে সাথে অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে। সকালে এক জায়গায় তো বিকেলে অন্য কোনো জায়গায় আবার রাতে অন্য কোথাও। তাই সময় হবে চতুর্থ মাত্রা। একটু ভীন্ন দিক থেকে ব্যাখ্যা করি।

আমরা জানি চুম্বকের সমমেরু পরষ্পরকে বিকর্ষণ করে এবং বিপরীত মেরু পরষ্পরকে আকর্ষণ করে। কিন্তু কেনো এমন করে তা কি জানি? উত্তর পরে দিচ্ছি।

পজিটিভ চার্জ এবং পজিটিভ চার্জ পরষ্পরকে বিকর্ষণ করে, নেগেটিভ চার্জ এবং নেগেটিভ চার্জ পরষ্পরকে বিকর্ষণ করে, কিন্তু পজিটিভ চার্জ এবং নেগেটিভ চার্জ পরষ্পরকে আকর্ষণ করে, কারণটা কি তা কি আমরা জানি?

উত্তরটা খানিকটা এমন। আমাদের চেনা জানা মহাবিশ্বে শূন্যস্থান বলে কিছু নেই। এমনকি ভ্যাকুয়ামের মধ্যে ও শূন্য বলে কিছু নেই। আমরা বাস করি ফিল্ডের জগতে। ইলেক্ট্রিসিটির ফিল্ড আছে, ম্যাগনেটিক ফিল্ড আছে, তেমনি গ্র‍্যাভিটেশনের ও ফিল্ড আছে। ফিল্ড গুলোকে একটা সমুদ্রের মতো ধরে নেন। এতে লাল, নীল, হলুদ, সবুজ বিভিন্ন রং এর পানি মেশানো। লাল ধরুন ইলেক্ট্রিসিটি, সবুজ ধরে নেন ম্যাগনেটিজম, এই রকম আমরা ফিল্ডের মাঝে ডুবে আছি। এই ফিল্ড গুলো তরঙ্গের মতো।

আরেকটা ব্যাপার মনে রাখতে হবে প্রত্যেক তরঙ্গের ভরবেগ থাকবে। ভর শুন্য হবার পরেও এই কারণে আলোক কণিকা ফোটনের ভরবেগ থাকে তার তরঙ্গ ধর্মের কারণে।

এখন সমুদ্রে দুটি নৌকা আছে। এদের ধরে নেন সমমেরু।এরা কাছাকাছি এলে একজনের ভরবেগ অপরজনের ভরবেগের মুখোমুখি কাজ করে, তাই এরা বিকর্ষিত হয়। কিন্তু বিপরীত মেরু নিকটে আসলে ভরবেগ অনুকূলে কাজ করে এবং তারা আকর্ষিত হয়। তরংগের তারতম্যের জন্যই এমন হবে। ধরেন দুটো নৌকা থেকে দুইজন মানুষ পরষ্পরের দিকে দুটি মালভর্তি বস্তা ছুড়ে দিলে নৌকা দুটি সরে যাবে একে অপরের থেকে। আবার ধরেন দুটো নৌকা থেকে দুইজন মানুষ পরষ্পরের বিপরীত দিকে মালভর্তি বস্তা দুটি ছুড়ে দিলে নৌকা দুটি একে অপরের কাছাকাছি সরে আসবে। এই বস্তা ছুড়ে মারাটাকে আমি বলছি ভরবেগের পরিবর্তন এবং বস্তা ছুড়ে মারার হার (রেট) কে বলছি বল বা ফোর্স।

এখন গ্র‍্যাভিটি কাজ করার জন্য যে ফিল্ড প্রয়োজন হবে সেই ফিল্ডকেই বলা হয় স্পেস-টাইম বা স্থানকাল। এই ফিল্ড কন্সেপ্ট মেনে চলার কারণেই দেখবেন নিউটনের সূত্র এবং কুলম্বের সূত্রের মাঝে অনেক মিল। নিউটন সেই বলের সমীকরণ দিয়েছেন।

নিউটনের মহাকর্ষ বল F = G.(M.m)/r^2

কুলম্বের তড়িৎ বল F = k.(Q.q)/d^2

কিন্তু বল কেনো কাজ করছে তা নিউটন বলতে পারেন নাই। উনি ভাসাভাসা বলেছেন action at a distance. কিন্তু আইনস্টাইনের জেনারেল রিলেটিভিটি এই প্রশ্নের উত্তর দেয় এবং স্পেস-টাইম বা স্থানকালকে ফিল্ড হিসেবে প্রকাশ করে। সেখানে r বা d এর মান যতই বেশী হোক না কেনো অল্পবিস্তর এই বলের প্রভাব স্পেস-টাইম এ থাকবেই। এই স্পেস-টাইমে বক্রতা তৈরি করে ভর। এবং এই বক্রতার কারণে একটা ভর অন্য ভরকে আকর্ষণ করে। তাই নিউটনীয় বল বলতে ভরবেগের পরিবর্তনের হারকেই বুঝায়। যদিও আমরা জানলাম ভর না থাকলেও (মানে ভর শুন্য হবার পরেও) ভরবেগ থাকতে পারে। ভর এবং বেগের গুনফলকে নিউটনীয় মতে ভরবেগ বলে কিন্তু যেকোনো ভরশুন্য তরংগের ভরবেগ থাকবেই যার সূত্র p = h/λ. যেখানে, p ভরবেগ, h প্লাংকের ধ্রুবক এবং λ তরংগ দৈর্ঘ্য।

এখন একটি ব্ল্যাকহোল এই স্থানকালে যে বক্রতা সৃষ্টি করে তা অতিক্রম করতে যে মুক্তিবেগ প্রয়োজন হয় তা ফোটনের বেগের চেয়েও বেশি হয়। মানে r অতি ক্ষুদ্র এবং M অনেক বড় হবার কারণে F এর মান এতো বেশি হয়ে যায় যে ফোটন ব্ল্যাকহোল থেকে বের হয়ে আসতে পারে না। মানে ব্ল্যাকহোল স্পেস-টাইমে অতিমাত্রায় বক্রতা তৈরি করতে পারে।

এর চাইতে সহজ ব্যাখা দিতে চাইলে দিতে পারেন।

তথ্য কণিকা

A Poor Servant of Almighty🙂

Posted in বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Translate
ব্লগ বিভাগ
রেফার লিঙ্কঃ

হ্যালো! এই লিংক থেকে বিকাশ অ্যাপ ডাউনলোড করে, প্রথমবার লগ ইন করুন। আপনি চলমান প্রথম অ্যাপ লগ ইন বোনাসের সাথে ২০টাকা এক্সট্রা বোনাস পাবেন। শর্ত প্রযোজ্য। ডাউনলোডঃ

https://www.bkash.com/app/?referrer=uuid%3DC1DPI569J

 

 

ব্লগ সংকলন
Follow Aimnote.TK on WordPress.com
%d bloggers like this: