সুপার হিরো -জ্যাক স্পারো

চলুন আপনাদের আজকে পাঁচ’শ বছর আগের সত্যিকারের মুসলিম সুপারহিরোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেই।
হ্যাঁ, আমি জ্যাক স্প্যারো এর কথাই বলছি।কি বিশ্বাস হয় না …! জ্যাক স্প্যারো …. মুসলিম …! তাহলে মন দিয়ে শুনুন, Sorry …Sorry পড়ুন ।
জ্যাক স্প্যারো ছিলেন মধ্যযুগের একজন নামজাদা মুসলিম বীর।তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৫৫৩ সালে ইংল্যান্ডের কেন্ট কাউন্টির ফ্যাভারশামে এক দরিদ্র পরিবারে।তার আসল নাম ছিলো জন ওয়ার্ড। তরুণ বয়সে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করলেও জন সবসময়ই স্বপ্ন দেখতেন সমুদ্র যাত্রার। তার এই সুযোগ সে তাড়াতাডড়িই পেয়ে যায়।তখন ব্রিটিশ নৌবাহিনী এবং স্পেনিশ নৌবাহিনীর যুদ্ধ শুরু হয়।জ্যাক ব্রিটিশ নৌবাহিনী হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহন করে।
জ্যাক রাজা প্রথম জেমসের সময় জন ওয়ার্ডকে বন্দী করে বাধ্যতামূলকভাবে জাহাজের শ্রমিক হিসেবে কাজ করাতে থাকে । সেখান থেকে জন তার কিছু সঙ্গীদের নিয়ে পালিয়ে যান।তারা পোর্টসমাউথ বন্দর থেকে একটি জাহাজ চুরি করে ভূমধ্যসাগরের দিকে যাত্রা করেন।অতপর তারা ভূমধ্যসাগরে জলদস্যুতা শুরু করেন।
তখন জ্যাক এক ত্রাসের নাম হয়ে ওঠেন। এই অপরাধের কারণে ব্রিটিশ রাজপরিবার তাকে ডেকে পাঠায়। তিনি বিপদ আঁচ করতে পের ষোড়শ শতাব্দীর শেষদিকে পালিয়ে তিউনিসিয়া চলে যান।তখন তিউনিসিয়া ছিল উসমানি খিলাফতের অধীন। জ্যাক স্প্যারো এক মুসলিম নাবিকের সহায়তায় আফ্রিকার তিউনিসে তার মূল ঘাটি স্থাপন করেন। এখান থেকে সহজেই ভূমধ্যসাগরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রমন করতে তিনি সক্ষম ছিলেন।
তিউনিসে থাকাকালীন সময়ে ছোট ছোট চড়ুই পাখির প্রতি তার আকর্ষনের কারনে স্থানীয়রা তাকে ডাকতো জ্যাক ‘আসফুর’।জ্যাক’এর খুব বেশি পাখিপ্রীতির কারণে তাকে ‘জ্যাক’ নামক পাখির নাম দিয়ে দেয়া হয়। পরে এটাই কারণ হয়ে যায় জ্যাক স্প্যারো নামের। কেননা, ইংরেজিতে স্প্যারো অর্থ পাখি।
পরবর্তীতে তিনি দস্যুবৃত্তি ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চেয়ে রাজা প্রথম জেমসের কাছে রাজকীয় ক্ষমার আবেদন করেন। কিন্তু প্রথম জেমস তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে তাই জ্যাক আবারও তিউনিসে চলে আসেন।
মুসলিম ভূখণ্ডে থাকতে থাকতে একসময় আল্লাহ তার দিলে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দেন। তিনি ও তার জাহাজের পুরো দস্যু স্টাফ ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন। তার ইসলামি নাম ছিল ‘ইউসুফ রেইস’। ইসলাম গ্রহনের পর তিনি ওসমানী নৌ-বাহিনীতে যোগ দেন এবং খ্রিস্টান অধিকৃত স্পেনের অসংখ্য স্পেনীয় ইহুদি এবং মুসলমান অধিবাসীদেরকে উদ্ধার করেন। তিনি একজন খ্রিস্টানদের হাতে নির্যাতিত মেয়েকে উদ্ধার করে বিয়ে করে।
ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষরদিকে আন্দালুসের মরিস্কো মুসলমানরা স্পেনের খ্রিস্টানদের হাতে অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হতে থাকে। ইসলাম ছেড়ে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করার জন্য তাদের ওপর প্রচুর নির্যাতন শুরু হয়। হাজার হাজার মরিস্কো মুসলমান স্পেন থেকে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দিকে পলায়ন করে। এদের বিপদে এগিয়ে আসেন জ্যাক স্প্যারো। মজলুম মুসলমানদের বাঁচানোর দায়িত্ব নিজ কাঁধে উঠিয়ে নেন। বর্ণিত আছে যে, আন্দালুসের নির্যাতিত মুসলমানদের বাঁচাতে তিনি মরক্কোর জলদস্যুদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলেন।
১৬১২ সালে তিনি তার নাবিক জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং বাকী জীবন ওসমানী সাম্রাজ্যের অধীন তিউনিসে বসবাস করেন। ১৬২২ সালে তিনি তিউনিসেই মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি ছিলেন খুবই বুদ্ধিমান। তার সামুদ্রিক জ্ঞান, বুদ্ধি ও রহস্য দেখে মাল্লারা যারপরনাই আশ্চর্য হয়ে যেত। বাস্তবিকপক্ষে তিনি একজন সামুদ্রিক ক্যাপ্টেন ছিলেন। মধ্যযুগে পুরো বিশ্বের মধ্যে ছিলেন একজন সাগরসম্রাট।
Collected
তথ্য কণিকা

A Poor Servant of Almighty🙂

Posted in অনির্বাচিত

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Translate
ব্লগ বিভাগ
রেফার লিঙ্কঃ

হ্যালো! এই লিংক থেকে বিকাশ অ্যাপ ডাউনলোড করে, প্রথমবার লগ ইন করুন। আপনি চলমান প্রথম অ্যাপ লগ ইন বোনাসের সাথে ২০টাকা এক্সট্রা বোনাস পাবেন। শর্ত প্রযোজ্য। ডাউনলোডঃ

https://www.bkash.com/app/?referrer=uuid%3DC1DPI569J

 

 

ব্লগ সংকলন
Follow Aimnote.TK on WordPress.com
%d bloggers like this: