কক্কিক্স-স্রষ্টার অসাধারন এক সৃষ্টি

 

মানুষ নিজেই স্রষ্টার অসাধারন একটা সৃষ্টি,কিন্তু মানুষের ‘কক্কিক্স’ হাড়টি তারো মধ্যে আরেকটু বেশিই চমকপ্রদ,যা হাদীস দ্বারাই প্রমানিত!

‘কক্কিক্স’ বা টেইলবোন থাকে মানুষের শিরদাড়ার একদম শেষে।এটি সম্বন্ধে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর বক্তব্য ছিল,(আবু হুরাইরা কর্তৃক বর্নিত)

“মানুষের এমন কোন অঙ্গ নেই যা নষ্ট হয়ে যাবে না,কিন্তু একটি বাদে,আর তা হল শেষপ্রান্তের ছোট্ট হাড়(little bone at the end of the coccyx)যেখান থেকে পুনরুত্থান দিবসে মানুষকে পুনর্জীবিত করা হবে।”

আরেক হাদীসে এসেছে, “সকল আদম সন্তানই শেষ হয়ে যাবে শুধু শেষপ্রান্তের হাড়টি ছাড়া,যেখান থেকে সে সৃষ্টি হয়েছিল,এবং সেখান থেকেই তাকে আবার পুনরুত্থিত করা হবে।”

কক্কিক্স নিয়ে পরবর্তীতে বিরাট গবেষনাও হয়েছে এবং এই কথার বাস্তব প্রমানও মিলেছে।

ভ্রুণ সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় প্রথমত এর দুইটা পার্ট থাকে,আউটার আর ইনার।সহজ ভাবে দেখলে,এই ‘আউটার’ অংশটার কাজ হচ্ছে ভ্রুণটাকে জরায়ু দেয়ালে আটকে রাখতে সাহায্য করা।

আর ‘ভেতরের’ অংশে ভ্রূনটা জরায়ু দেয়ালে আটকানোর ১৫ দিন পর তৈরি হয় ‘প্রিমিটিভ স্ট্রিক’ ও ‘প্রিমিটিভ নোড’ যা থেকে মানবদেহের অঙ্গগুলো তৈরির ধাপ শুরু হয়।

এই ধাপ হল তিনটা,এক্টোডার্ম,মেসোডার্ম আর এন্ডোডার্ম।এরা আসলে তিনটা ভ্রুণীয় স্তর,যা থেকেই ওই অঙ্গগুলো তৈরি হতে থাকবে।

যাক,কথা হচ্ছে,ওই ‘প্রিমিটিভ নোড’,যা এই স্তরগুলো সৃষ্টির মাধ্যমে ভ্রুণে জীবনের স্পন্দন ঘটায়,সে এই স্তরসৃষ্টির কাজ শেষ হতেই ‘টেইলবোন’ বা ওই কক্কিক্স সৃষ্টি করে ফেলে!এবং ওই হিসেবেই মানবদেহে রয়ে যায়।তাহলে দেখা যাচ্ছে,এই টেইলবোন সেই ‘প্রিমিটিভ নোড’ ধারন করে,যা নতুন জীবন সৃষ্টি করতে সক্ষম!

১৯৩৩ সালে মানবদেহ সৃষ্টির এই প্রাথমিক ‘অর্গানাইজার’ এর সন্ধান দিয়েছিলেন স্পেম্যান।১৯৩৫ সালে নোবেল পান তিনি।

এবার ধ্বংস না হওয়ার প্রমানে একটু বলি।

২০০৩ সালে ড.ওথম্যান এবং শেখ আবু মাজিদ নামক দুজন বিজ্ঞানী একটা কক্কিক্স নিয়ে পুরো ১০ মিনিট ধরে আগুনে পোড়ান।দেখা যায় এটি পুড়ে প্রথমত লাল,পরে কালো বর্ন ধারন করে।

অতঃপর ইউনিভার্সিটি অফ সানার(ইয়েমেন) হিস্টোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড.সালেহ ওলাকির নিকট পুড়ে যাওয়া টুকরো গুলো পরীক্ষা করতে দেন।পরীক্ষায় দেখা যায়,কক্কিক্স পুড়ে গেলেও এর কোষগুলো পুরোপুরি অক্ষত,যা অন্য যেকোন হাড়,কিংবা অঙ্গ,কিংবা ত্বকের ক্ষেত্রেও পুরোপুরি অসম্ভব!

সুতরাং দেখা যাচ্ছে,রাসুল(সাঃ) এর কথা অনুযায়ীই,প্রকৃতপক্ষে জীবন সৃষ্টি এবং পরবর্তীতে পুনরুত্থান,দুটিই হচ্ছে কক্কিক্সের অন্তরালেই।

অতএব,তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?(আর-রাহমান)

©Dewan Mahtab didar

তথ্য কণিকা

A Poor Servant of Almighty🙂

Tagged with: ,
Posted in পবিত্র কুরআন

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Translate
ব্লগ বিভাগ
রেফার লিঙ্কঃ

হ্যালো! এই লিংক থেকে বিকাশ অ্যাপ ডাউনলোড করে, প্রথমবার লগ ইন করুন। আপনি চলমান প্রথম অ্যাপ লগ ইন বোনাসের সাথে ২০টাকা এক্সট্রা বোনাস পাবেন। শর্ত প্রযোজ্য। ডাউনলোডঃ

https://www.bkash.com/app/?referrer=uuid%3DC1DPI569J

 

 

ব্লগ সংকলন
Follow Aimnote.TK on WordPress.com
%d bloggers like this: