মিজানুর রহমান আজহারীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সমূহের নিরপেক্ষ যুক্তি সঙ্গত ব্যাখা

✅**পর্দা**

উনার বক্তব্যের ইউটিউব লিংকঃ

বক্তব্যের আলোকে একটি সহীহ হাদীস-

আব্‌দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ একবার কুরবানীর দিনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফায্‌ল ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) –কে আপন সওয়ারীর পিঠে নিজের পেছনে বসালেন। ফায্‌ল একজন সুপুরুষ ছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকেদের মাসাআলা মাসায়িল বলে দেয়ার জন্য আসলেন। এ সময় খাশ’আম গোত্রের এক সুন্দরী নারী রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট একটা মাসাআলা জিজ্ঞেস করার জন্য আসল। তখন ফায্‌ল (রাঃ) তার দিকে তাকাতে লাগলেন। মহিলাটির সৌন্দর্য তাঁকে আকৃষ্ট করল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফায্‌ল (রাঃ) –এর দিকে ফিরে দেখলেন যে, ফায্‌ল (রাঃ) তাঁর দিকে তাকাচ্ছেন। তিনি নিজের হাত পেছনের দিকে নিয়ে ফায্‌ল (রাঃ) –এর চিবুক ধরে ঐ নারীর দিকে না তাকানোর জন্য তার মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিলেন। [২০]

সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬২২৮
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

নোটঃ
এখানে উক্ত নারীকে রাসূল (সাঃ) মুখের পর্দা করতে বলেননি,বরং উক্ত সাহাবী (রাঃ) কে তিনি মুখ ঘুরিয়ে দিয়েছেন বারবার।

মেয়েদের পর্দা ২ প্রকারঃ
১) মুখ খোলা ২)শুধু চোখ খুলে রেখে পুরো শরীর ঢাকা।

এখানে উল্লেখ্যযোগ্য যে আজহারী সাহেব পুরো মুখ (২) ঢাকার পক্ষে কথা বলেছেন বারবার – উনার মতে সবচেয়ে ভালো পর্দা পুরো শরীর ঢেকে রাখা-শুধু চোখ খোলা থাকবে।

কিন্তু ১ নাম্বার পর্দা মেয়েদের ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল যেমনটি উক্ত হাদীসের নারীটি করেছেন।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে-প্রথমেই পুরুষের চোখকে হেফাজত করতে বলেছেন।

✅ ভার্জিন/নন-ইন্টেক/পৌড়াঃ

মা খাদিজাতুল কোবরা (রাঃ)- এর ব্যাপারেঃ

আবু হালা হিন্দা ইবন যুরারা আত-তামীমীর সাথে প্রথম বিয়ে হয়। জহিলা যুগেই তাঁর মৃত্যু হয়। আবু হালার মৃত্যুর পর আতীক ইবন আবিদ, মতান্তরে আয়িজ-এর সাথে দ্বিতীয় বিয়ে হয়। এ কথা বলেছেন ইবন ‘আবদিল বারসহ অধিকাংশ সীরাত বিশেষজ্ঞ। তবে কাতাদার সূত্রে জানা যায়, তাঁর প্রথম স্বামী ‘আতীক, অতঃপর আবু হালা। ইবল ইসহাকও এ মত পোষণ করেছেন বলে ইউনুস ইবন বুকাইর বর্ণনা করেছেন। বালাজুরী বলেছেন, দ্বিতীয় স্বামী ‘আতীকের সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তাপর রাসূলুল্লাহকে (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিয়ে করেন ৪০ বছর বয়সে।

সূত্রঃ আসহাবে রাসূল (সঃ)

নোটঃ এখানে উল্লেখ্য করা প্রয়োজন,উনি ২ বার পূর্ব বিবাহিতা এবং বিধবা ছিলেন।
এখানে আজহারী সাহেব, ভার্জিন শব্দটি ব্যবহার না করলেও পারতেন, কারন আমরা জানি কোন মহিলার একবার বিয়ে হলে উনার সেই ভার্জিনিটি আর থাকে না।
এর জন্য আজহারীর আরো সুন্দর শব্দ কিংবা এত বিশদ আলোচনার প্রয়োজন ছিল না।
যাই হোক এই বক্তব্যর জন্য উনি ক্ষমা চেয়েছেন।

ইউটিউব লিংকঃ

✅ প্রিয় নবী(সঃ) উম্মি (নিরক্ষর) নবীঃ

উনার বক্তব্যে লিংক

এর আলোকে সহীহ হাদীসঃ

সা’ঈদ ইবনু ‘আমর ইবনু সা’ঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি ইবনু ‘উমারকে বলতে শুনেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমরা উম্মী (নিরক্ষর) জাতি। আমরা লেখিনা এবং হিসাবও করি না। মাসে দিনের সংখ্যা এত, এত এবং এত। তৃতীয়বার তিনি নিজ হাতের বুড়ো আঙ্গুলটি বন্ধ করে দু’হাত দিয়ে ইঙ্গিত করলেন (অর্থাৎ তিনবার ইঙ্গিতে ঊনত্রিশ দিন প্রমাণ করলেন)। আর কোন কোন মাস এত, এত এবং এত দিনেও হয় (অর্থাৎ পূর্ণ ত্রিশ দিন হয়ে থাকে)। (ই.ফা. ২৩৭৮,ই.সে. ২৩৭৯)

সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৪০১
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

নোটঃ

আমাদের প্রিয় নবী(সাঃ) প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে লেখাপড়া জানতেন না ঠিকিই কিন্তু উনি ছিলেন আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞানের অধিকারী।
উনি বলেছেন- আমি জ্ঞানের শহর,আর আলী (রাঃ) তার দরজা।

এখানে একটা বিষয় বুজতে হবে,উনি নিরক্ষর ছিলেন কিন্তু তিনি অশিক্ষিত ছিলেন না ( নাউজুবিল্লাহ)

আমাদের প্রিয় নবী(সঃ) নিরক্ষর ছিলেন কারন আল্লাহ উনাকে কুদরতি ভাবেই প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা সুযোগ দেননি।

কারন — ভালো করে বুঝুন—প্লিজ 🙏

কুরআন নাযিলের ঐ সময় ছিল – আরবী সাহিত্যের উৎকৃষ্ট বিপ্লবিক সময়।
ঐ সময় বহু কবিতার গ্রন্থ ও বিখ্যাত কিছু কবির নাম:

জাহেলি যুগ (প্রায় ৪৫০-৬২২ খ্রী:)

এ যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ রচনা হল মুআল্লাকা। এতে সাত জন কবির নাম উল্লেখযোগ্য ৷ যারা হলেন-

ইমরুল কায়েস

ত্বরফা বিন আল আবদ

যুহায়ের বিন আবি সুলমা

লাবিদ বিন রাবিয়া

আমর বিন কুলসুম

হারিস বি হিল্লিজা

আনতারা বিন সাদ্দাদ

এ ছাড়াও নাবিগা যুবয়ানি, আ’সা ক্বায়েস ও সানফারা এ যুগের উল্লেখযোগ্য কবি।

কবি ছাড়া ও এ যুগে যারা খতিব (বাগ্মী)(orator) হিসাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন তারা হলেন –

ক্বুস বিন সা’আদা আল আইয়াদি

আমর বিন মা’দিকারব জুবাইদি

দেখুনঃ তখনকার আরবী সাহিত্যের চরম এই উৎকর্ষতার যুগে প্রিয় নবী (সাঃ) ( যদি প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা জানতেন) তাহলে নিশ্চিতভাবেই আরবের সমস্ত লোকজন একজোট হয়ে বলতেন যে পবিত্র কোরআন শরীফ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ইসলামের নিজের হাতে রচনা, আল্লাহ প্রদত্ত কোন ঐশী গ্রন্থ নয়। (নাউজুবিল্লাহ)

কারণ পবিত্র কুরআন শরীফ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আরবি সাহিত্য গ্রন্থ।
পবিত্র কোরআন শরীফের মত রচনাবলী পৃথিবীর অন্য কোন ভাষায় এখনো রচিত হয়নি,পবিত্র কোরআন শরীফের রচনাশৈলীর মাধুর্যতা, সাহিত্যিক মানদন্ড এ এটি অনন্য অসাধারণ।

তাই আরবের বিখ্যাত সাহিত্যিকরা খুবই অবাক হয়েছিলেন পবিত্র কোরআন শরীফের রচনাশৈলী দেখে।
এবং বলতে বাধ্য হয়েছিলেন একজন নিরক্ষর ব্যক্তির পক্ষে এ ধরনের উৎকৃষ্ট মানের সাহিত্য গ্রন্থ রচনা করা সম্ভব নয়।
আর তারা নিশ্চিতভাবে মেনে নিয়েছিলেন যে এটি মোহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) এর নিজ হাতে রচিত গ্রন্থ নয় কারণ তিনি ইতিপূর্বে কোন প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা করেননি।

এমনকি আবু জাহেল আবু লাহাব স্বীকার করত যে পবিত্র কুরআন আল্লাহ তাআলার বাণী, কিন্তু তারা ঈমান আনত না তাদের অন্তরে আল্লাহ সীল মেরে দিয়েছেন।

অতএব আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) নিরক্ষরতা পবিত্র কুরআন যে আল্লাহতালার বানী অর্থাৎ উনার নবুওয়াতের পক্ষে অকাট্য একটা দলিল।
অতএব উনি নিরক্ষর ছিলেন ঠিকই কিন্তু অশিক্ষিত ছিলেন না।
নিরক্ষর আর অশিক্ষিতর মধ্যে হাজার মাইলের ব্যবধান।
আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

✅ হযরত আলী (রাঃ) প্রসংগঃ

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে জায়গায় এরশাদ করেন যেঃ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সলাতের নিকটবর্তী হয়ো না যতক্ষণ না তোমরা যা বল, তা বুঝতে পার।

সূরা নিসা- আয়াত ৪৩

আল্লাহ তাআলা স্বীয় ঈমানদার বান্দাদেরকে নেশার অবস্থায় নামায পড়তে নিষেধ করছেন। কেননা, সে সময় নামাযী নিজেই বুঝতে পারে না যে, সে কি বলছে।

নেশার অবস্থায় নামাযের নিকটে না যাওয়ার নির্দেশ মদ্য হারাম হওয়ার পূর্বে ছিল। যেমনঃ সূরা-ই-বাকারার (আরবী) (২:২১৯)-এ আয়াতের তাফসীরে বর্ণিত হাদীসে প্রকাশিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন এ আয়াতটি হযরত উমার (রাঃ)-এর সামনে পাঠ করেন তখন হযরত উমার (রাঃ) প্রার্থনা করেন-“হে আল্লাহ! মদ্য সম্বন্ধে আরও পরিষ্কারভাবে আয়াত অবতীর্ণ করুন।’ তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। অর্থাৎ নেশার অবস্থায় নামাযের নিটকবতী না হওয়ার আয়াতটি নাযিল হয়। এরপরে লোকেরা নামাযের সময় মদ্যপান পরিত্যাগ করে। এটা শুনে হযরত উমার (রাঃ) পুনরায় এ প্রার্থনাই করেন। তখন (আরবী) (৫:৯০-৯১) পর্যন্ত আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়। যার মধ্যে মদ্য হতে দূরে থাকার পরিষ্কার নির্দেশ বিদ্যমান রয়েছে। এটা শুনে হযরত উমার (রাঃ) বলেন, ‘আমরা বিরত থাকলাম।’ এ বর্ণনার একটি সনদে রয়েছে যে, যখন সূরা-ইনিসার এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয় এবং নেশার অবস্থায় নামায পড়তে নিষেধ করা হয় তখন প্রথা ছিল, যখন নামায আরম্ভ করা হতো তখন একটি লোক উচ্চৈঃস্বরে ঘোষণা করতো-মাতাল ব্যক্তি যেন নামাযের নিকটবর্তী না হয়।

তাফসীর-ই-ইবনে জারীরেও একটি বর্ণনা রয়েছে যে, হযরত আলী (রাঃ) ইমাম হন এবং যেভাবে সূরা কাফিরুন পড়তে চেয়েছিলেন সেভাবে পড়তে পারেননি। তখন আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ) ইমাম হয়েছিলেন এবং তিনি নিম্নরূপ পাঠ করেছিলেনঃ (আরবী) তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয় এবং ঐ অবস্থায় নামায পড়া হারাম ঘোষণা করা হয়।

সূত্রঃ তাফসির ইবনে কাসীর

এতএব বুঝা যাচ্ছে যে মদ হারাম হওয়ার পূর্বে সাহাবীদের মধ্যে মদ খাওয়ার প্রচলন ছিল,পরবর্তীতে সেটা পর্যাক্রমে হারাম করা হয়েছে তিনটে আয়াতের মাধ্যমে।

হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু মদপান হারাম হওয়ার পরে তার নিজের পুত্র আবু শাহমাকে মদপানের অপরাধে ১০০ দোররা চাবুক মেরে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন।

উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, মিজানুর রহমান আজহারীর সব বক্তব্যই কোরআন হাদিসের আলোকে প্রদান করা।
কিন্তু তিনি শব্দের ব্যবহারে মারাত্মক কিছু ভুল করেছেন, তার উচিত ভবিষ্যতে মাহফিলের সময় উক্ত প্রসঙ্গে আরও যথেষ্ট শালীন এবং সাবলীল শব্দ ব্যবহার করা।

অতীতে করা আপনার বিভ্রান্তি গুলোর ব্যাপারে সজাগ থাকুন এবং ক্ষমা চেয়ে নিন।
ভবিষ্যতে ওনার প্রতি উদাত্ত আহ্বান থাকবেঃ
আপনি শ্রোতাদের শ্রেণী অনুযায়ী বক্তব্য প্রদান করেন,সবার সব কিছু বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা সমান নয়।
ইসলামের এই সূক্ষ্ম বিষয়গুলো খুব সাধারণ মুসলমানের পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়, আপনি ভবিষ্যতে কোনো বক্তব্য প্রদানকালে অবশ্যই স্থান-কাল-পাত্রভেদে সুন্দর উপযুক্ত শব্দচরণ করবেন।

আল্লাহ আপনার হাত দিয়ে ইসলামকে আরো প্রসারিত করুক কোটি যুবকের হৃদয়ে সত্যের বানী ইসলামকে পরিস্ফুটিত করুক।
আমীন।

A Geographer. living in Chittagong. Passionate About Technology. fan of Cosmology, like Photography & love music. interested in cricket and enjoy traveling.

Posted in ইসলামের বানী, টুকরো লেখা

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Translate
ব্লগ বিভাগ
ব্লগ সংকলন
Follow Aimnote.TK on WordPress.com
%d bloggers like this: