মহাকাশে যে বার্তা ছুটে চলেছে ভিনগ্রহের উদ্দেশ্যে।


মানুষ বা পৃথিবীর কেউ নয়, অ্যারেসিবো বার্তার লক্ষ্য হচ্ছে পৃথিবী থেকে ২৫ হাজার আলোকবর্ষ দূরের নক্ষত্রপুঞ্জ ক্লাস্টার মেসিয়ার ১৩! পাঠানোর পর থেকে ১,৬৭৯ বাইনারি সংখ্যার ৩ মিনিটের বার্তাটি গত ৪৪ বছর ধরে ছুটে চলছে তার লক্ষ্যপানে। এই বার্তাটিকেই ধরা হয় পৃথিবীর প্রথম আন্তঃনক্ষত্রীয় বার্তা হিসেবে।
বার্তাটি যখন পাঠানো হয়, তখন এটিই ছিল সে সময় পর্যন্ত উৎপাদিত সবচেয়ে শক্তিশালী শব্দ সংকেত, যা ছিল ২০ ট্রিলিয়ন ওয়াট সর্বতোমুখী সম্প্রচারের সমতুল্য। ১৯৭৪ সালের নভেম্বর মাসে এটি প্রেরণ করেন পুয়োর্তো রিকোর অ্যারেসিবো মানমন্দিরের বিজ্ঞানীগণ। ভিনগ্রহের প্রাণীদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য পাঠানো এই বার্তাটি নানা কারণেই ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
কেন পাঠানো হয়েছে বার্তাটি?
মহাবিশ্বের ক্ষুদ্রতম একটি গ্রহ পৃথিবী। এরকম লক্ষ, কোটি গ্রহ রয়েছে মহাবিশ্বে। ধারণা করা হয়, তার মধ্যে হয়তো কোনোটিতে রয়েছে প্রাণের অস্তিত্ব। থাকতে পারে মানুষের চেয়েও বুদ্ধিমান প্রাণীর আবাস। যদি মহাবিশ্বের কোথাও থেকেই থাকে প্রাণের অস্তিত্ব, তবে তাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য দরকার বার্তা বিনিময়। আর এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই মানুষ ও পৃথিবী সম্পর্কে মৌলিক কিছু তথ্য বাইনারি সংখ্যার সংকেত আকারে পাঠানো হয় মহাকাশে। মেসিয়ার নক্ষত্রপুঞ্জের দূরত্ব পৃথিবী থেকে ২৫ হাজার আলোকবর্ষ দূরে। এই শব্দ সংকেতটি যদি সেই নক্ষত্রের কোনো প্রাণীর কাছে পৌঁছায়ও, আর তারা যদি সেদিনই সেই সংকেতটির উত্তর পাঠায়, সেটিকে আবার পৃথিবীতে আসতে আবারো পাড়ি দিতে হবে ২৫ হাজার আলোকবর্ষ পথ!
অ্যারোসিবো বার্তার ভবিষ্যৎ
২০১৯ সালের ১৬ নভেম্বর অ্যারেসিবো বার্তাটির বয়স যখন ৪৪ বছর পূর্ণ হয়ে গেছে ততক্ষণে তা পাড়ি দিয়েছে ২৫৯ ট্রিলিয়ন মাইল, যেখানে তাকে পৌঁছাতে হবে ১৪৬,৯৬৫,৬৩৮,৫৩১,২১০,২৪০ মাইল! যা তার মূল যাত্রার খুবই ক্ষুদ্রতম অংশ। জানা নেই শব্দ সংকেতটির যাত্রা কোথায় গিয়ে শেষ হবে কিংবা সফলভাবে কারো কাছে গিয়ে পৌঁছাবে না হারিয়ে যাবে মহাকাশের অতল গহবরে। তবে মহাবিশ্বের অন্য কোথাও কোনো প্রাণীর আবাস থাকলে তাদের প্রযুক্তি কেমন, তাদের চিন্তার ধরনই বা কেমন তার কোনো তথ্য যেহেতু পৃথিবীতে নেই, কাজেই এই বার্তাকে একটি প্রতিকী বার্তা হিসেবে ধরে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
অ্যারেসিবো বার্তা কি কোনো ঠিকানা পাবে? কেউ জানে না সেই উত্তরটি। সেকারণেই কিছু কৌতূহলের উদ্রেক করা ছাড়া এই বার্তাটির আপাতত আর কোনো মহিমা নেই। যদি ধরেও নেওয়া যায় মহাবিশ্বে বুদ্ধিমান প্রাণীর বাস আছে আর বার্তাটি যদি কোনো বুদ্ধিমান প্রাণীর কাছে পৌঁছায়ও, তারা যদি সেই বার্তাটি বুঝতে পারে ও উত্তরও পাঠায়, সেটি পৃথিবীতে পৌঁছা পর্যন্ত পৃথিবী টিকে থাকবে কি না তা-ই বা কে বলতে পারে!
ভিনগ্রহের প্রাণীদের জন্য আমাদের বার্তাটি তাদের কাছে পৌঁছানোর আগেই হয়তো হাজার-কোটি বছর আগে পাঠানো তাদের কোনো বার্তা আমরা পেয়েও যেতে পারি! তবুও প্রশ্ন থেকেই যায়, সে পর্যন্ত আমরা থাকবো তো?
তথ্য কণিকা

A Poor Servant of Almighty🙂

Posted in অনির্বাচিত

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Translate
ব্লগ বিভাগ
রেফার লিঙ্কঃ

হ্যালো! এই লিংক থেকে বিকাশ অ্যাপ ডাউনলোড করে, প্রথমবার লগ ইন করুন। আপনি চলমান প্রথম অ্যাপ লগ ইন বোনাসের সাথে ২০টাকা এক্সট্রা বোনাস পাবেন। শর্ত প্রযোজ্য। ডাউনলোডঃ

https://www.bkash.com/app/?referrer=uuid%3DC1DPI569J

 

 

ব্লগ সংকলন
Follow Aimnote.TK on WordPress.com
%d bloggers like this: