ছাত্র জীবনে ১২টি করনীয় কাজ

১. নিজস্ব ইনকাম: আপনি কোটিপতির সন্তান হলেও- স্টুডেন্ট লাইফে আপনাকে কিছু না, কিছু ইনকাম করতেই হবে। তাতে রেস্পন্সিবিলি কিভাবে নিতে হয়। কিভাবে অন্যকে সার্ভ করতে হয়। কাজ দিয়ে হ্যাপি রাখতে হয় সেটা শিখতে পারবেন। এই ইনকাম টিউশনি দিয়ে, কোচিং সেন্টারে ক্লাস নিয়ে, পার্টটাইম চাকরি দিয়ে হতে পারে। বন্ধুদের কাছে বা আশেপাশের মানুষের কাছে কিছু বিক্রি করে (হালের বিশ্বকাপ জার্সি) যেটাই হোক না কেন, বেশ কয়েকবার ইনকাম করার চেষ্টা আপনাকেই করতেই হবে।
২. MS Excel: আপনি ইঞ্জিনিয়ারিং/মেডিকেল/কিংবা হিস্ট্রি যে সাবজেক্টেই পড়েন না কেন। বেসিক Excel আপনাকে শিখতেই হবে। কিভাবে excel এ যোগ করে, এভারেজ বের করে। চার্ট বানায়, ফর্মুলা এপ্লাই করে, ডাটা ফিল্টার করে, ফর্মুলা বাদে ভ্যালু কপি-পেস্ট করে। একাধিক ওয়ার্কশীট থেকে ডাটার সামারি করে। সেটা আপনাকে জানতেই হবে। জাস্ট এক সপ্তাহ সময় দিন। নিজের কম্পিউটারে এক্সেল না থাকলে, গুগল ড্রাইভের গুগল শিট (sheet) এ কিভাবে করে শিখে নেন।
.
৩. ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট: বন্ধুদের ঘুরতে যাওয়া হোক কিংবা ক্যাম্পসে কোন ইভেন্ট হোক- সেটা ইফতার পার্টি, বৈশাখী মেলা, rag পার্টি, জব ফেয়ার, এলামনাই রিউনিয়ন। যেটাই হোক আপনাকে ইভেন্টের একজন মেইন অর্গানাইজার হতেই হবে। তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন কিভাবে বিভিন্ন ধরনের মানুষ হ্যাডেল করতে হয়। কিভাবে বাজেট করতে হয়। প্লানিং করতে হয়। মানুষের কাজ থেকে হেল্প আদায় করতে হয়। ১৫-২০ টা জিনিস একসাথে কম্বাইন করার প্রাকটিক্যাল ট্রেনিং ফ্রি ফ্রি আর কোথাও পাবেন না।
৪. বেসিক ইংলিশ: আপনি দেশের সেরা ভার্সিটি বা সবচেয়ে খারাপ কলেজের ডিগ্রি কোর্স পড়েন না কেন। ইংরেজি নরমাল কথা বার্তা চালিয়ে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতেই হবে। কোন একটা ইংরেজি পত্রিকা ধরে সেখানে কি নিয়ে নিউজ করছে সেটা বুঝার যোগ্যতা অর্জন করতেই হবে। নিজের সম্পর্কে বা দেশের সম্পর্কে এক বসায় দুই তিন পাতা ইংরেজিতে লেখার যোগ্যতা তৈরি করতে হবে। ইংরেজি শিখার জন্য ইউটিউবে প্রচুর ভিডিও আছে। ২ মাস ইংরেজি ভিডিও দেখে দেখে রুম বন্ধ করে ওদের কথার সাথে নিজে নিজে উচ্চারণ প্রাকটিস করেন। দেখবেন আপনার ইংরেজি লেভেল কই থেকে কই চলে গেছে।
.
৫. এরিয়া অফ ইন্টারেস্ট: আপনি যে সাবজেক্টেই পড়েন না কোন। যে ফিল্ডেই পড়েন না কেন। আপনাকে সেই ফিল্ডের যেকোন একটা এরিয়াতে আপনার টেক্সট বইয়ের/ ক্লাসের পড়ার বাইরে বেশি জানতে হবে। সেটার জন্য আপনি এক্সট্রা বই পড়তে পারেন। গুগলে সার্চ দিয়ে আর্টিকেল বের করে পড়তে পারেন। সেই ফিল্ডের ব্লগ বা রিসার্চ পেপার থাকলে সেগুলা জানতে হবে। নিজের ভিতরে কিউরিসিটি গ্রো করতেই হবে। তারপর যা যা শিখছেন সেগুলা একটা একটা করে সামারি লিখতে হবে। সেই সামারি কোথাও না কোথাও পাবলিশ করার চেষ্টা করবেন। ডিপার্টমেন্টের ম্যাগাজিন। সেটাও না পারলে বিশ্বের সেরা পাবলিশার ফেইসবুকে পাবলিশ করে দিবেন। দুই একজন বন্ধু টিটকারি মারলেও আপনি কী কী শিখছেন সেটা ফেইসবুকে পোস্ট করে দিবেন।
৬. বেস্ট ফ্রেন্ড: আপনার একজন বেস্ট ফ্রেন্ড বানাতেই হবে। একটা ফ্রেন্ড সার্কেল থাকবে। তবে ফ্রেন্ড সার্কেলের মধ্যে বা বাইরে আপনার একজন বেস্ট ফ্রেন্ড থাকবেই। যার সাথে মিলে আপনি অনেক কিছু করবেন। অনেক জায়গায় যাবেন। দুজনের ইন্টারেস্ট লেভেল কাছাকাছি থাকবেন। একজন আরেকজনকে হেল্প করবেন। এই ক্লোজনেস আপনাকে ডাউন টাইমে হেল্প করবে। ফিউচার ঠিক করতে হেল্প করবে। কারণ সব বন্ধুর সাথে সব শেয়ার করা যায় না। বেস্ট বাডি না থাকলে- ইয়াং লাইফে নিজের ভিতরের ইমোশনাল অত্যাচারটা বড্ড রকমের বেশি হবে।
.
৭. নেটওয়ার্কিং: আপনি যে ফিল্ডে কাজ করতে চান। সেই ফিল্ডের কমপক্ষে দশজনের সাথে আপনার কানেকশন থাকতে হবে। তারা হতে পারে আপনার সিনিয়র। অন্য ভার্সিটির সিনিয়র বা অন্য কোথাও থেকে পাশ করা প্রফেশনাল হতে পারে। দেশের বাইরের কেউ হতে পারে। হয়তো কোন ওয়ার্কশপ বা সেমিনারে এ গিয়ে তাদের সাথে পরিচয় হইছে। তাদের সাথে আপনার যোগাযোগ থাকবে। তারা জানবে আপনি কোন কোন জিনিসে ভালো। আপনার প্যাশন কি। ফিউচার প্ল্যান নিয়ে তাদের সাথে ডিসকাস করবেন।
.
৮. বিল্ড ইউর রেজুমি: চার বছর ভার্সিটি পড়ার পর যদি দেড় পাতা রেজুমি লেখার মেটেরিয়াল আপনার লাইফে না থাকে তাইলে আপনি কি করলেন, নাবিলা? আপনাকে এক্সট্রা কারিকুলার এর সাথে জড়িত থাকতেই হবে। যেকোন একটা অর্গানাইজেশনের সাথে। সেরকম কোন অর্গানাইজেশন না থাকলে আপনি এবং আপনার বন্ধুরা মিলে একটা দিয়ে ফেলবে। সিনিয়র ভাইদের কাছ থেকে তাদের সিভি/রেজুমি জোগাড় করে ফেলবেন। দরকার না থাকলেও সেকেন্ড ইয়ারে/থার্ড ইয়ারে আপনার একটা রেজুমি বানিয়ে ফেলবেন। bdjobs এ গিয়ে দুই একটা জব সার্কুলার দেখে ঠিক করবেন তারা কী কী চায়। তাহলে বুঝতে পারবেন কোন কোন জায়গায় গ্যাপ আছে। তখন সেই গ্যাপগুলার এরিয়াতে ইমপ্রুভ করে ফেলবেন।
.
৯. MS Word/Powerpoint: আপনি যেই লাইনেই পড়েন না কেন। MS word এ কিভাবে রিপোর্ট ফরম্যাট দিতে হয় , অটোমেটিক টেবিল অফ কন্টেন্ট কিভাবে বানাতে হয়। ট্রেকিং চেইঞ্জ, রেফারেন্স এড করার বিষয়গুলো জানতে হবে। একইসাথে ভালো পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন বানানোর চেষ্টা করবেন। আপনার ক্লাসে প্রেজেন্টেশন না থাকলে নিজেই নিজের জন্য বানিয়ে ফেলবেন। how to make good powepoint presentation লিখে গুগলে সার্চ দিয়ে শিখার জন্য চেষ্টা করতে হবে।
১০. স্ট্রেজে উঠতে হবে: স্টুডেন্ট লাইফে একবার না একবার আপনাকে স্টেজে উঠতেই হবে। মিনিমাম ৫০জন মানুষের সামনে। সেটা বক্তৃতা দিতে হোক। উপস্থাপনা দিতে হোক। বা নাচ, গান/নাটক কিছু পারফর্ম করতে হোক। আপনাকে পাবলিকের সামনে দাঁড়ানোর ভয় কাটানোর এর চেয়ে ভালো সুযোগ স্টুডেন্ট লাইফের বাইরে কোথাও পাবেন না।
.
১১. এক্সটা নলেজ: পাঠ্য বইয়ের বাইরের জগতে আপনাকে হানা দিতেই হবে। সেটা হতে পারে কিছু বিখ্যাত বই পড়ে (বাংলায় বা ইংরেজিতে)। উপন্যাস বা আত্ন উন্নয়নমূলক বা অন্য কোন ক্যাটাগরির বই। হতে পারে কিছু অস্কার বিজয়ী সিনেমা। মোস্ট পপুলার TED talks গুলা দেখলে। অন্য ডিপার্টমেন্টের ছেলেপুলেরা কী কী নিয়ে পড়তেছে সেটা নিয়ে মাঝে মধ্যে গল্প করলেন। তাইলে আপনি আপনার জগতের বাইরের কিছু জিনিস সম্পর্কে অবগত হলেন। আর তার পাশাপাশি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুজে কি জিনিস। কোন একটা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এর প্রাথমিক ধারণাগুলো নিয়ে রাখতে হবে।
১২: ব্যক্তিগত প্রিপারেশন: আপনার একটা ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে। টিউশনি করে হোক বা যেভাবেই হোক পাশ করার পর তিন-চার মাস চলার মতো টাকা আপনার ব্যাংকে থাকতে হবে। কারণ পাশ করার পরের দিনই সবাই চাকরি পেয়ে যাবেন না। আপনাকে দুই জোড়া ফর্মাল ড্রেস কিনে রাখতে হবে। ইন্টারভিউ দেয়ার সময় কাজে লাগবে।
.
মনে রাখবেন- আপনার নিজেকেই নিজে গড়ে নিতে হবে। আপনার ভার্সিটি আপনাকে গড়ে দিবে না। শুধু একটা প্লাটফর্ম দিবে। সেই প্লাটফর্ম কাজে লাগানোর দায়িত্ব আপনার।
এই চেকলিস্ট ধরে ধরে এখন চেক করেন- ১২ টা পয়েন্টের কোন কোন জায়গায় আপনার ঘাটতি আছে। সেগুলা ঠিক করার জন্য আজকে থেকেই কাজে নেমে পড়েন। তাহলে ছয় মাস বা এক বছর পরের আপনি, আজকের আপনির চাইতে অনেক বেশি আত্মপ্রত্যয়ী এবং যোগ্য হবেন। সেটা দেখার অপেক্ষায়।

Courtesy : ঝংকার মাহবুব

A Geographer. living in Chittagong. Passionate About Technology. fan of Cosmology, like Photography & love music. interested in cricket and enjoy traveling.

Tagged with: ,
Posted in উপদেশমূলক গল্প, প্রযোজনীয়

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Translate
ব্লগ বিভাগ
ব্লগ সংকলন
Follow Aimnote.TK on WordPress.com
%d bloggers like this: