বাংলাদেশের এক অকৃত্রিম বন্ধু

𝗪𝗶𝗹𝗹𝗶𝗮𝗺 𝗢𝘂𝗱𝗲𝗿𝗹𝗮𝗻𝗱

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে, বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি মুক্তিযোদ্ধা। বাটা সু কোম্পানির প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে ওডারল্যান্ড ১৯৭০ সালে প্রথম ঢাকায় আসেন। কয়েক মাসের মধেই তিনি কোম্পানি-ম্যানেজার পদে পদোন্নতি লাভ করেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই কোম্পানি-ম্যানেজার ওডারল্যান্ড যুদ্ধে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
টঙ্গীতে ছিলো বাটা স্যু কোম্পানির কারখানা। ওডারল্যান্ড এই কারখানায় স্থাপন করলেন একটি গোপন ক্যাম্প। মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সংগ্রহ, আর্থিক সাহায্য থেকে শুরু করে সবকিছুতেই নিজে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন Ouderland। মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দানের উদ্দেশ্যে, নিজের পরিবারকে দেশে পাঠিয়ে দেন তিনি।
২য় বিশ্বযুদ্ধ থেকে অর্জিত গোয়েন্দাগিরি এবং গেরিলা যুদ্ধের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কাজে লাগান তিনি। একটি বিদেশী কোম্পানির প্রধান হিসেবে তার অবাধ যাতায়াত ছিল সর্বত্র। পশ্চিম পাকিস্তানের বাটা সু-কোম্পানির পার্সোনাল ম্যানেজার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বেলুচ রেজিমেন্টের অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নেওয়াজের সূত্র ধরেই সেনাসদরের জেনারেল টিক্কা খান, জেনারেল নিয়াজী ও পুলিশ কমিশনার চৌধুরীসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন সামরিক ও বেসামরিক পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেন Ouderland। ক্যান্টমেন্টের ভিতরের এই সম্পর্ক গুলোকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তৎপরতা ও পরিকল্পনার তথ্য গোপনে সংগ্রহ করতেন এবং পাঠাতে্ন ২ নম্বর সেক্টর হেডকোয়ার্টারে। আর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে হত্যা-নির্যাতনের ছবি তুলে গোপনে পাঠাতেন বিদেশের গণমাধ্যমে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গেরিলা কম্যান্ডো হিসেবে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি ঢাকার আশেপাশে পরিচালিত একাধিক গেরিলা অভিযানের পরিকল্পনায় সাহায্য করেন তিনি।
যুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে আর্থিক সম্মাননা দিলে তিনি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যার্থে দান করেন চিরসংগ্রামী এই যোদ্ধা। হিটলারের নাৎসি বাহিনীর কারাগার থেকে পালিয়ে ২য় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। জীবিকার তাগিদে, ১৭ বছর বয়সে সু পলিসার হিসেবে চাকরি শুরু করেছিলেন বাটা কোম্পানীতে।
William A. S. Ouderland ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত ঢাকায় বাটা সু কোম্পানিতে চাকুরিতে ছিলেন। চাকুরি থেকে অবসর নিয়ে তিনি ফিরে যান তাঁর নিজ দেশ অস্ট্রেলিয়ায়। ২০০১ সালের ১৮ মে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।জীবনের শেষ দিনগুলোতে প্রায়ই তিনি কন্যাকে বলতেন: “Bangladesh mon amour” ‘বাংলাদেশ আমাদের ভালবাসা।

https://en.m.wikipedia.org/wiki/William_A._S._Ouderland

তথ্য কণিকা

A Poor Servant of Almighty🙂

Posted in মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Translate
রেফার লিঙ্কঃ

হ্যালো! এই লিংক থেকে বিকাশ অ্যাপ ডাউনলোড করে, প্রথমবার লগ ইন করুন। আপনি চলমান প্রথম অ্যাপ লগ ইন বোনাসের সাথে ২০টাকা এক্সট্রা বোনাস পাবেন। শর্ত প্রযোজ্য। ডাউনলোডঃ

https://www.bkash.com/app/?referrer=uuid%3DC1DPI569J

 

 

ব্লগ বিভাগ
ব্লগ সংকলন
Follow Aimnote.TK on WordPress.com
%d bloggers like this: