সৃস্টিকর্তার নিকট একটি প্রশ্ন???

ইয়া “রব্বুল ‘আরশীল আজীম”

📖 আমার প্রশ্নটা করার আগে সামান্য নোট করার সময় প্রার্থনা করছি…

🇧🇩 আমি ৮৭১৯১ টি গ্রাম নিয়ে গঠিত ৯৪ তম ক্ষুদ্র দেশের,৭৫৩ কোটি মানুষের ভীড়ে পৃথিবী নামক এই নীল গ্রহটির একজন পাপিষ্ঠ।

🌍 ১২৭৪২ কিঃমি ব্যাসের এই পৃথিবী,১৪ লক্ষ ৯৬ হাজার কিঃমি দূর থেকে প্রতিঘন্টায় ১ লক্ষ ৭ হাজার কিঃমিঃ
বেগে সূর্য নামক ১৪ লক্ষ ৯৬ হাজার কিঃমিঃ ব্যাসের একটি জলন্ত গ্যাসীয় পিন্ডের চারিদিকে ঘুরছে-যার ভিতরের তাপমাত্রা ১৫০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস।

🌞 পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণ্যমান সৌরজগতের ৯ টি গ্রহের মধ্যে একটি মাত্র যার আলো পৃথিবীতে আসতে সময় লাগে – ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড।

১৩ লক্ষগুন বড় সূর্যকে যদি একটা সাধারণ দরজার সমান বড় ধরা হয়, তাহলে তার তুলনায় পৃথিবী হবে শুধুমাত্র একটা এক টাকার কয়েনের সমান!!!

⭐ “মিল্কিওয়ে” নামক গ্যালাক্সিটির ২০ হাজার কোটি নক্ষত্রগুলোর মধ্যে একটি মাত্র আমাদের সূয্যি মামা,যা আকারের দিক থেকে খুবই নিম্নমধ্যমানের একটা নক্ষত্র মাত্র!!!

✨গ্যালাক্সি গ্রুপিং ✨

(*মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিটি তার পার্শ্ববর্তী “এন্ড্রোমিডা” গ্যালাক্সি সহ ৫৪ টি গ্যালাক্সির একটি লোকাল গ্রুপ মাত্র।
*এই রকম ১৫০০ টির বেশি লোকাল গ্রুপ নিয়ে একটা ভির্গো ক্লাস্টার।
* ১০০ টির বেশি ভির্গো ক্লাস্টার নিয়ে গঠিত হয়েছে ভির্গো সুপার ক্লাস্টার যার ব্যাস ১১০০ কোটি আলোক বর্ষ।

🤔 (আমরা জানি, আলোর গতি প্রতি সেকেন্ডে ২৯৯৭৯২ কিঃমি প্রায় ৩ লাখ,১ বছরে যায় ৯.৪ ট্রিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি কিঃমিঃ)

🌀ল্যানকিয়া,হাইড্রা,হাইপেরিন, লিও,হারকিউলিস ইত্যাদি আরো অনেক সুপার ক্লাস্টার রয়েছে)

✅ মোটামুটি এই পর্যন্ত টেলিস্কোপের সাহায্যে দৃশ্যমান ইউনিভার্সে ২০ হাজার কোটি গ্যালাক্সি চিহ্নিত হয়েছে।

👉 এই পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে বড় গ্যালাক্সিটি হচ্ছে IC-1101,
*যার ব্যাস ৬ মিলিয়ন আলোকবর্ষ
*পৃথিবী থেকে ১০৫৬ আলোকবর্ষ দূরে।
*গ্রহের সংখ্যা প্রায় ১০০ ট্রিলিয়ন বা ১০০ হাজার কোটি।

⭕ এত বড় বড় গ্যালাক্সি কিংবা নক্ষত্রগুলো গুলো – একটা সুপারমেসিভ ব্ল্যাকহোলের মধ্যে হারিয়ে যায়।
এই পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে বড় ব্ল্যাকহোলের নাম – M87 যার ব্যাস ৫৩.৫ মিলিয়ন আলোকবর্ষ।

🏁 সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে,
এই মহাবিশ্বের প্রায় ৭০% ই হচ্ছে ডার্ক এনার্জি, যা কিনা আমরা কখনোই দেখি না। আর ২৫% হচ্ছে ডার্ক ম্যাটার, দুর্ভাগ্যবশত(!) আমরা এগুলোও দেখতে পাই না। তাহলে আমরা আসলে দেখতে পাই কি?? এই যে এত্ত বড় বড় বিলিয়ন বিলিয়ন নক্ষত্র, ছায়াপথ এবং অন্যান্য ভরযুক্ত যা কিছু বস্তু আছে তার সবকিছু মিলাইয়াও মহাবিশ্বের ৫%ও হয় না!!!

✅ আমরা সবচেয়ে অত্যাধুনিক হাবল টেলিস্কোপের সাহায্যে এখনো এই মহাবিশ্বের মাত্র ৪% জানতে পেরেছি,বাকী ৯৬% সম্পর্কে কোন ধারনাই রাখি না

🔮 একটা মহাবিশ্বের কুল-কিনারা না করে,এর মধ্যে আবার চরম লেভেলের গবেষনা চলছে একের অধিক মহাবিশ্ব বা মাল্টিভার্স নিয়ে।
একের অধিক মহাবিশ্ব, সবগুলোই আবার একটা সুপার ম্যাসিভ উনিভার্সের অন্তর্ভুক্ত।

📢 মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন :

🔷”তিনিই সে সত্ত্বা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু জমীনে রয়েছে সে সমস্ত। তারপর তিনি মনোসংযোগ করেছেন আকাশের প্রতি। বস্তুতঃ তিনি তৈরী করেছেন সাত আসমান। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে অবহিত।”
(সূর বাকারা – আয়ত ২৯)

🔶”তিনি সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। তুমি করুণাময় আল্লাহ তা’আলার সৃষ্টিতে কোন তফাত দেখতে পাবে না। আবার দৃষ্টিফেরাও; কোন ফাটল দেখতে পাও কি?”
(সূরা মূলক: আয়াত ৩)

💠”তোমরা কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ কিভাবে সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন।”
(সূরা নূহ: আয়াত ১৫)

🔘 এভাবে আমি আমার নিদর্শনগুলোকে বিশদভাবে বর্ণনা করি ঐ সম্প্রদায়ের জন্যে, যারা চিন্তাভাবনা করে।” (সূরাহ ইউনুস, আয়াত : ২৪)

🔶‘তারা কি ভূপৃষ্ঠে ভ্রমণ করে না, যাতে তারা জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন হৃদয় ও শ্রুতিসম্পন্ন শ্রবণের অধিকারী হতে পারে! বস্তুত চক্ষু তো অন্ধ নয়, বরং অন্ধ হচ্ছে তাদের হৃদয়।’ (সূরা হজ : ৪৬)

⚫ ‘তবে কি তারা লক্ষ্য করে না উটের প্রতি, কীভাবে তা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আকাশের প্রতি, কীভাবে তাকে উঁচু করা হয়েছে এবং পাহাড়সমূহের প্রতি, কীভাবে তাকে প্রথিত করা হয়েছে এবং ভূমির প্রতি, কীভাবে তা বিছানো হয়েছে’। (সূরা গাশিয়া ১৭-২০)

⚪তারা কি নিজেদের অন্তরে ভেবে দেখে না, আল্লাহ আসমান ও জমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুই যথাযথভাবে ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছেন।(সূরা রুম, আয়াত-৮)

🔵আর তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না,যারা বলে যে, আমরা শুনেছি,অথচ তারা শোনে না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলার নিকট সমস্ত প্রাণীর তুলনায় তারাই মূক ও বধির,যারা উপলব্ধি করে না।’(সূরা আনফাল : ২১, ২২)

🔷 বল, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান?(সূরা : আনআম : ৫০ )

🔶’তারা কি কোরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করে না, নাকি তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?(সূরা মুহাম্মদ : ২৪)

আমার প্রশ্নটা ভুলে দিয়ে,
মহান পালনকর্তার নামের পবিত্রতা, মহত্ত্ব, বড়ত্ব ঘোষণা করছি।
এবং লাখো-কোটি দরুদে সালাম জানাই সেই মহামানবের প্রতি যার একজন উম্মতের একটি সিজদার দাম-হয়রত জিব্রাইল (আঃ) এর ৩০ লক্ষ বছর সিজদার সমান।

প্রিয় নবী রহমাতুল্লিল আলামীন,হযরত মুহাম্মদ মোস্তাফা সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

যিনি পৌঁছে গেছেন সর্বোচ্চ মর্যাদায় তাঁর সুমহান চরিত্রের দ্বারা।
বিদুরিত হয়েছে সকল অন্ধকার তাঁর সৌন্দর্যের ছটায়।
সম্মিলন ঘটেছে তাঁর মাঝে সকল উন্নত চরিত্রের।
তাঁর প্রতি ও তাঁর সম্মানিত বংশধরদের প্রতি দরুদ ও সালাম ❤

#এস্ট্রোনমি
#ইউনিভার্স

A Geographer. living in Chittagong. Passionate About Technology. fan of Cosmology, like Photography & love music. interested in cricket and enjoy traveling.

Posted in বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, মহাবিশ্ব ও এলিয়েন

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Translate
ব্লগ বিভাগ
ব্লগ সংকলন
Ainul islam Munna

Ainul islam Munna

A Geographer. living in Chittagong. Passionate About Technology. fan of Cosmology, like Photography & love music. interested in cricket and enjoy traveling.

Personal Links

Verified Services

View Full Profile →

%d bloggers like this: