মহাজন ও এক পরমা সুন্দরী

এক গরীব বৃদ্ধের পরমা সুন্দরী এক মেয়ে ছিলো। বৃদ্ধটি একবার অভাবের তাড়নায় এক মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিলো। কিন্তু ঋণ পরিশোধ করার মতো কোন অবস্থা তার ছিলো না। বছর ঘুরতেই সুদসমেত সেই ঋণ হয়ে গেলো বিশাল অঙ্কের। মহাজন ঋণ পরিশোধের জন্য তাগাদা দিতে লাগলেও বৃদ্ধটি একটা পয়সাও পরিশোধ করতে পারলেন না।

এবার মহাজনের নজর পড়লো বৃদ্ধের সুন্দরী মেয়ের দিকে। সে মেয়েটিকে বিয়ে করার জন্য মনস্থির করলো। কিন্তু মহাজন দেখতে যেমন কদাকার ছিলেন ঠিক তেমনি তার বয়সও ছিলো অনেক বেশি। সুতরাং মেয়েটির গরীব পিতা যে বিয়েতে সম্মত হবে এমন কোন আশা ছিলো না। তাই সে একটি চুক্তি করবে বলে সিদ্ধান্ত নিলো।

মহাজন বৃদ্ধকে প্রস্তাব দিলো, তোমার ঋণ পরিশোধের জন্য দুটি পথ খোলা আছে। এর জন্য আমরা একটা লটারি করবো। আমার নুড়ি বিছানো বাগানের মধ্যে থেকে সাদা এবং কালো রঙ এর দুটি নুড়ি আমি একটা ব্যাগের মধ্যে রাখবো। তোমার মেয়েকে ব্যাগ থেকে দৈবচয়নে একটা নুড়ি তুলে আনতে হবে।

যদি নুড়ি পাথরটি সাদা রঙ এর হয় তাহলে তোমার সব ঋণ মাফ করে দেওয়া হবে। আর যদি নুড়িটি কালো হয় তাহলেও তোমার সব ঋণ মাফ করে দেওয়া হবে কিন্তু তোমার মেয়েকে আমার কাছে বিয়ে দিয়ে দিতে হবে। বৃদ্ধের এই চুক্তিতে রাজি হওয়া ছাড়া আর কোন উপায় ছিলো না। বৃদ্ধের মেয়েও বাবার অবস্থার কথা চিন্তা করে আর কোন প্রতিবাদ করলো না।

নির্ধারিত দিন চলে আসলে বৃদ্ধটি তার মেয়েকে নিয়ে মহাজনের বাগানে উপস্থিত হলো। সেখানে এলাকার আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলো। মহাজন বাগান থেকে দুটি নুড়ি পাথর উঠিয়ে একটা ব্যাগের মধ্যে রাখলো। মেয়েটি লক্ষ্য করলো, যে দুটি পাথর মহাজন তুলেছে সেই দুটি পাথরই কালো রঙের। এমতাবস্থায় মেয়েটি যে পাথরই ব্যাগ থেকে দৈবচয়নে তুলে আনুক সেটা কালো ভিন্ন অন্য কিছু হবে না।

মেয়েটি ভাবলো, সে এই অবস্থায় কি করতে পারবে? সে চাইলে সবার সামনে মহাজনের এই কপটতা প্রকাশ করে দিতে পারেে কিন্তু তাতে তার বাবার ঋণ শোধ হবে না। অন্যথায় সে ব্যাগ থেকে কালো পাথর তুললে তার বাবার ঋণ শোধ হবে সত্য তবে তাকে সারা জীবন কদাকার বয়স্ক মহাজনের বউ হয়ে কাটিয়ে দিতে হবে। মেয়েটি ধৈর্যধারণ করলো এবং সব কিছু ভাগ্যের উপরে ছেড়ে দিলো।

এবার যখন মহাজন ব্যাগ থেকে মেয়েটিকে নুড়ি বের করতে বললো। তখন মেয়েটি সন্তর্পণে ব্যাগের ভেতর হাত ঢুকালো এবং দুটি কালো নুড়ির মধ্যে একটিকে হাতের মুঠিতে চেপে বের করে আনলো। কিন্তু বের করে আনা মাত্রই সে নুড়িটিকে বাগানের নুড়ির স্তূপের মাঝে অসাবধানতা বশত ফেলে দিলো।

মেয়েটি এবার সবার উদ্দেশ্যে বললো, আমি খুবই দুঃখিত যে নুড়িটি হঠাৎ আমার হাত থেকে পড়ে গেছে। তবে কোন সমস্যা নেই, মহাজনের হাতে থাকা ব্যাগটা পরীক্ষা করে দেখা যাক। সেখানে কোন রঙের নুড়িটি রয়ে গিয়েছে সেটা দেখলেই তো আমরা বুঝতে পারবো আমি কোন নুড়িটিকে তুলেছিলাম। মহাজন বুঝে গেলো যে, তার চাল কোন কাজে আসলো না। মেয়েটির বাবাও ঋণমুক্ত হয়ে গেলো।

মোরাল: আমাদের জীবনেও এমন কিছু মূহুর্ত আসে যখন আমরা পসিবল সব রিমেডি চিন্তা করেও কোন কূলকিনারা করতে পারি না। অথচ যখন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার সময় হয় তখন দেখা যায় দৈব উপায়ে আমরা সেখান থেকে মুক্তি পেয়েছি। সুতরাং শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত আমাদের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে হবে। হতাশ হওয়া যাবে না কোন মতোই।

[মূল: একটি ইতালিয়ান গল্প থেকে অনুবাদ করেছি]

তথ্য কণিকা

A Geographer. living in Chittagong. Passionate About Technology. fan of Cosmology, like Photography & love music. interested in cricket and enjoy traveling.

Posted in গল্প- স্বল্প

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Translate
ব্লগ বিভাগ
ব্লগ সংকলন
Follow Aimnote.TK on WordPress.com
%d bloggers like this: