প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ:surname বা উপাধী নাম

প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ।অনেক অসংগতির মধ্যে আজ আরো একটা অসংগতি নিয়ে লিখতে হচ্ছে আর তা হলো surname বা উপাধী নাম বা বংশীয় নাম।লক্ষ্য করলাম এই সমস্যাটা আমাদের বাংলাদেশেই প্রকট অন্য কোন দেশে আছে কি না আমি জানি না।আমাদের দেশে surname বা উপাধী নাম বা বংশীয় নাম ব্যবহারের কোন বাধ্যবাধকতা নেই।যে যেমন খুশী নাম ব্যবহার করছে।ধরা যাক একজনার নাম আশরাফুল ইসলাম।তার ছেলে হলে তিনি নাম রাখছেন সুরুজ মিয়া।এই যে নামের ব্যবহার এটা নিয়েই আমার কথা।ইসলামের ছেলে মিয়া হয় কিভাবে?ইসলামের ছেলে হতে হবে ইসলাম।মানে সুরুজ ইসলাম।তার ছেলে হবে দিদারুল ইসলাম।সারা বিশ্বের দিকে লক্ষ্য করুন নামের এমন অপব্যবহার এক বাংলাদেশে ছাড়া আর কোথাও হচ্ছে না।বাংলাদেশের হিন্দু ভাইদের দিকেই লক্ষ্য করুন।সাহার ছেলে সাহা,গুপ্তের ছেলে গুপ্ত,ভট্টাচার্য্যের ছেলে ভট্টযাচার্য্যই হচ্ছে।সাহার ছেলের নাম গুপ্ত রাখছে না কেউই।আবার আরবের দিকে লক্ষ্য করুন শেখের ছেলে শেখই হচ্ছে।অন্য কিছু হচ্ছে না।উপজাতির দিকে লক্ষ্য করুন চাকমার ছেলে চাকমাই হচ্ছে মার্মা হচ্ছে না।
আমার পরিচিত একজন আছে ধরা যাক তার নাম মিজান চৌধুরী।(আসল নাম গোপন রাখা হলো)।প্রবাসে সে দীর্ঘ সময় একটা কোম্পানীতে চাকুরীর সুবাদে অনেক অনুরোধের ফলে তার ভাইকে নিয়ে আসতে সক্ষম হলো ইতালিতে।কিন্তু আসার পরেই বাধলো বিপত্তি।তার ভাইয়ের নাম ছিলো রফিকুল ইসলাম(আসল নাম গোপন রাখা হলো)।তো কোম্পানী থেকে প্রথমেই তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করা হলো কেন এই দূর্নীতি করা হয়েছে?মিজান চৌধুরী তো অবাক।কি দূর্নীতি করলাম।কোম্পানী তাকে জিজ্ঞেস করলো তোমার বংশীয় নাম চৌধুরী।তোমার ভাই ইসলাম হয় কি ভাবে?ছেলেটা হতবাক।কাজিন বলার কোন অবকাশ নেই কারন ব্রাদার আর কাজিনের মধ্যে বিস্তর ফারাক।অবশেষে এই বলে রেহাই পেলো যে তার মায়ের দুই বিয়ে হয়েছিলো এবং তারা দুই বাপের সন্তান কিন্তু মা একই।এই হলো অবস্থা।এরপরেও বিদেশীদের মুখে আমাকে প্রায়ই শুনতে হয় তোমাদের দেশে কি বংশীয় নামের প্রচলন নেই?শুনতে হয় কারন বাংলাদেশ নিয়ে মাঝে মাঝেই বিভিন্ন ডকুমেন্টারী এখানকার টিভি চ্যানেলগুলোতে দেখানো হয়।হয়ত তারা সেখান থেকে জেনে থাকবে।
এবার আসছি কেন আমার আজকের এই লেখা।বাংলাদেশ দ্রুত উন্নয়নশীল একটা দেশ।আমাদের বিপুল জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা দ্রুত উঠে যাচ্ছি উন্নতির কাতারে। একসময় নিজেদের মধ্যেই সবকিছু সীমাবদ্ধ ছিলো কিন্তু আজ পরিস্থিতি ভিন্ন।বিশ্বায়নের এই যুগে আমরা ছুটে চলেছি দেশ থেকে দেশান্তরে।প্রচুর মানুষ বিদেশে যাচ্ছে পড়াশুনা,ব্যবসা কিংবা কাজের সন্ধানে।তাছারা ফ্রীল্যান্সাররা জড়িয়ে পড়েছেন বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার সাথে।মানে হলো আমরা আর আমাদের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই।জাতি হিসেবে বিশ্বের সাথে তাল মিলাতে গেলে এই বংশীয় নাম অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত কারন সবকিছুরই একটা সিষ্টেম আছে আর বিশ্বায়নের এই যুগে আমরা কোন কিছুরই উর্ধে নই।ব্যাপারটা ভেবে দেখতে হবে সবাইকে।
এক্ষেত্রে যাদেরকে প্রথম এগিয়ে আসতে হবে সে হলো সরকারকে।ব্যবস্থা নিতে হবে তাদেরকেই।সেই সাথে তৈরী করতে হবে জনসচেতনতা।আজ হোক কিংবা ৫০ বছর পর হোক আমাদের এই লাইনে আসতেই হবে কারন কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে সবকিছু লিপিবদ্ধ করতে গেলে এর কোন বিকল্প নেই।সেই সাথে সন্ত্রাস দমন,অপরাধী সনাক্তিকরনে এই পদ্ধতি কাজে দিবে মহৌষধ হিসেবে।আর সরকারের পাশাপাশি আমাদেরও ভূমিকা থাকতে হবে।থাকতে হবে পরিবর্তনের অঙ্গিকার।মনে রাখতে হবে এই বিশাল ব্যাপারটা একদিনে কিংবা ১০/২০ বছরে সমাধান হবে না।প্রচুর সময় লাগবে।কিন্তু শুরু তো করতে হবে।শুরুটা না করলে শেষ তো হবে না কোনদিনও।ব্যাপারটা সরকার এবং আপনাদের ভেবে দেখার অনুরোধ করছি।
*** যে নামগুলো ব্যবহার করা হয়েছে না নিতান্তই আমার তৈরী।কারো নামের সাথে মিলে গেলে ভাববেন তা নিতান্তই কাকতালিয়।ধন্যবাদ।***

https://web.facebook.com/tuner.probashi

Advertisements

Ainul Islam munna. student.living in Chittagong, Bangladesh. fan of technology, photography, and music.interested in cricket and travel.

Posted in অতিথি লেখক, অনির্বাচিত

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

ব্লগ বিভাগ
ব্লগ সংকলন
%d bloggers like this: