ডিজিটাল ভর্তি ব্যাবস্থা–আমাদের হয়রানি

ডিজিটাল ভর্তি ব্যাবস্থায় আমার চাচাতো ভাই চান্স পেয়েছে মহিলা কলেজে!!
.
সে সাইন্স থেকে GPA-5 পেয়ে শুধু মহিলা কলেজেই চান্স পায়নি, সাথে কমার্স গ্রুপও পেয়েছে। প্রথমে খারাপ লাগলেও পরে ভেবে দেখলাম, ভালোই তো- ছেলেটা দুধে ভাতে থাকতে পারবে।
.
মাদারীপুরের তুহিন, সে ঢাকার সরকারি বিজ্ঞান কলেজে আবেদন করেছে। কিন্তু তাকে মনোনীত করা হয়েছে কমার্স বিভাগে। অথছ বিজ্ঞান কলেজে কমার্স বিভাগই নেই।
.
চাঁদপুরের জনি, সে নিজের এলাকার কলেজে আবেদন করেছে অথছ চান্স পেয়েছে ঢাকার একটি কলেজে। (কই আগরতলা, কই চৌকির তলা)
.
ঢাকার নবাবগঞ্জের আঁখি, আবেদন না করেই চান্স পেয়েছে ময়মনসিংহের মোক্ষপুর কলেজে। ভাবুন অবস্থা!!
.
এক ছেলে মেসেজ করলো,- সে গোল্ডেন পেয়ে চান্স পেয়েছে মহিলা কলেজে কমার্স গ্রুপে। ওই কলেজে খোজ নিয়ে দেখে কমার্স গ্রুপ তারা চালুই করেনি।
.
সাব্বিরের হাস্যকর ভাবে ভিকারুন্নেসায় ভর্তির জন্য মনোনয়ন পাবার ব্যাপারে না হয় না-ই বললাম।
.
রোজি, মেয়ে হয়ে তার মনোনয়নের নাম পেয়েছে বয়েজ কলেজে। দেশ টিভির রিপোর্টারকে এই কথা বলতে গিয়ে রোজির বাবা বারবার লজ্জায় মুখ লুকাচ্ছিলো।
.
কুমিল্লার রিয়াজ। পছন্দের কোনও কলেজই তার কপালে জোটেনি। শেষে নিজেকে আবিষ্কার করলো একটি মহিলা কলেজের লিস্টে। অর্থাৎ সেও চান্স পেয়েছে মহিলা কলেজে।
.
ঠাকুরগাঁওয়ের ফয়সাল ও রিপন। ওদের পয়েন্ট যথাক্রমে ৪.৮৯ ও ৪.৫৬। অথছ কম পয়েন্ট পেয়েও রিপন ঢাকার মাইলস্টোনে চান্স পেলো। কিন্তু ফয়সাল কোথাও চান্সই পায়নি!
.
রাশেদ, বাবা মুদি দোকানদার। কারন ভাগ্যবশত সে এমন এক কলেজেই ভর্তির অনুমতি পেলো যেখানে পড়তে হলে তাকে বসতবাড়ি বিক্রি করতেই হবে। (সাধ্যর বাইরে)
.
GPA-5 পাওয়া রাজ্বি, বাসা রাজধানীর শান্তিনগরে। ঢাকা শহরের পাঁচ কলেজের নামে আবেদন করলেও পেয়েছে একেবারে ভিন্ন কলেজ। যার নাম সে পছন্দের তালিকায়ই দেয়নি।
.
যশোরের নিয়ন, পাঁচটি কলেজের তালিকায় গাজীপুরের কোনও কলেজের নাম না থাকলেও তার পছন্দের তালিকায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে গাজীপুরের কলেজ।
.
শুনে অবাক হবেন, প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী আবেদনই করতে পারেনি। নির্ধারিত ১৬ দিনে ভর্তির জন্য আবেদন করেছে প্রায় ১১ লাখ ৪৯ হাজার শিক্ষার্থী। এদের মধ্য থেকেও ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ১০ লাখ ৯৩ হাজার ৩৭৪ জন শিক্ষার্থী।
.
শুধু কি তাই!
আবেদন না করেও অখ্যাত বা দূরদূরান্তের কলেজে মনোনীত হয়েছে কেউ। কেউ কেউ আবেদন করেছে ব্যবসায় শিক্ষা শাখার জন্য, কিন্তু মনোনীত হয়েছে বিজ্ঞানে।
.
পাশের হার বেশি দেখাতে গিয়ে যেমন করে গনহারে পাশ দেওয়া হয়েছিলো, একই ভাবে ডিজিটাল দেশ করতে গিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে লক্ষ লক্ষ ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যত।
.
আজ লজ্জার সাথে মনে পড়ে যাচ্ছে সেই ২০১২ সালের কথা,
প্রায় ৩০ হাজার ছাত্র ইডেন কলেজ, বদরুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজ, কুড়িগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন মহিলা প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পেয়েছিলো ভর্তির।
.
তখনও সারাদেশে ৩ লাখ ৬১ হাজার ২০৬ জন শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি আবেদন করেছিলো। যার মধ্য প্রায় ৫৫ হাজার শিক্ষার্থী এখনকার মত পরিস্থিতিতে পড়েছিলো। আর এখনকার ভুক্তভোগীর সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে ইতিমধ্যেই।
.
এই হলো আমার দেশ, এই দেশের নেতারাই পকেট ভারী করার জন্য শিক্ষার্থীদের থেকে ভ্যাট/চাঁদা নেওয়ার চিন্তা করে!!
.
হায়রে ডিজিটাল,
কিনলাম গাই – হইলো আবাল!!

Advertisements

Ainul Islam munna. student.living in Chittagong, Bangladesh. fan of technology, photography, and music.interested in cricket and travel.

Tagged with:
Posted in অন্যান্য

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

ব্লগ বিভাগ
ব্লগ সংকলন
%d bloggers like this: