IELTS কি? এবং কিভাবে করতে হবে ?

IELTS হলো ইংরেজী জ্ঞানের পরীক্ষা। IELTS- এর সম্পূর্ণ অর্থ International English Language Testing System. যদিও এই শব্দটি Acronym নয় তবুও অনেক (প্রায় সকলেই) এটিকে ‘অলস্‌’ বলে থাকেন। এটি TOEFL- এর মতো একটি Test. TOEFL স্কোর প্রয়োজন হয় তখন যখন আপনি আমেরিকা ও কানাডা যেতে ইচ্ছুক হন। IELTS প্রয়োজন হয় যখন আপনি গ্রেট ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড বা অন্যান্য ইউরোপিও উচ্চতর বিষয়ে (Upper Intermediate Level) পড়াশোনা করতে যান। এসব দেশে পড়াশোনা করতে গেলে IELTS স্কোর প্রয়োজন হয়। ইদানিং America তেও IELTS স্কোর প্রয়োজন হচ্ছে। IELTS একটি সার্টিফিকেট কোর্স মাত্র, যার অর্থ হলো আপনি ইংরেজী ভাষাভাষি দেশে পড়তে গিয়ে ক্লাস লেকচার শুনে বুঝতে পারছেন কিনা, শিট দেখে পড়তে পারছেন কিনা, শুছিয়ে লিখতে পারছেন বা বলতে পারছেন কিনা তা ওসব দেশে যাবার আগেই পরীক্ষা করে দেখা।

সবারই উচিৎ IELTS এ দক্ষতা অর্জন করা এবং IELTS নিয়ে বিদেশ যাওয়া কেননা এটি থাকলে অনেক সুবিধা কারণ এর ফলে ইংল্যান্ডের চাকরিদাতারা বুঝতে পারেন যে

IELTS, USA

IELTS, USA

আপনি ইংরেজীতে দক্ষ।

TOEFL/IELTS কোনটি সহজ? TOEFL বিষয়টি IELTS এর তুলনায় অনেক কঠিন, কারণ : ১। TOEFL – এ চারটি মডিউল হলেও পরীক্ষা দিতে হয় (Internet Based Test) তে। এই সিস্টেমে লেখার ঝামেলা থাকে বেশী এবং খুব কম সংখ্যাক পরীক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করে থাকে। TOEFL পরীক্ষা দিতে আপনাকে কম্পিউটার চালাতে জানতে হবে। ২। আমরা ছোটবেলা থেকেই ব্রিটিশ ইংলিশ (Royal English)- এ অভ্যস্ত। আমেরিকান ইংরেজীর কাঠামো ও স্পেলিং আমাদের কালচার ও পড়াশোনার জন্য সম্পূর্ণ বেমানান।

IELTS বিষয়টি কিভাবে করতে হয়? IELTS চারটি বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত- Listening, Reading, Writing, ও Speaking. এই এক একটি অংশকে মডিউল বলা হয়, যেমন: Listening module. Writing module, Reading module, Speaking module এই বিষয়টি দুভাবে করা যায়, এটি Academic purpose এ, অন্যটি General purpose -এ। Academic এ বেশীরভাগ ছাত্রছাত্রী IELTS করার ফলে ওসব দেশের Student visa পাওয়া বেশ সহজ হয়ে যায়। আপনি যখন IELTS করবেন একটি কথা মনে রাখবেন, এই পরীক্ষা দেয়ার পর যদি কাঙিক্ষত স্কোর করেন তবে Visa পাওয়া কিছুটা সহজ হবে মাত্র। এর ফলে যে ওদেশের University কম Fee দিতে হবে এমন কিন্তু নয়। ওসব দেশের University- তে ভর্তির একটা Requirement হচ্ছে IELTS. তবে সব দেশের জন্য একই স্কোর প্রযোজ্য নয়। কোন দেশের জন্য কিছু কম স্কোর হলেও চলে, যেমন ৫ স্কোর পেয়ে আপনি অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা পেতে পারেন। গ্রেট ব্রিটেনের জন্যও প্রয়োজন ৫-৬ পয়েন্ট। পয়েন্টের হিসেবটা জটিল নয়। IELTS পয়েন্ট রয়েছে ১ থেকে ৯ পর্যন্ত। একেকটি পয়েন্ট একেক রকম দক্ষতা প্রকাশ করে। আপনি পরীক্ষায় ১ পান তবে বোঝা যাবে আপনি Non user, যদি ২ পান তবে বোঝা যাবে আপনি Intermittent User, ৩ পেলে Extremly Limited User, ৪ পেলে Limited User, ৫ পেলে Modest User, ৬ পেলে Competent User, ৭ পেলে Good User, ৮ পেলে Very Good User, ৯ পেলে Expert User, (0) পেলে বোঝা যাবে আপনি পরীক্ষাই দেননি। পরীক্ষা দেয়ার ১২ থেকে ১৪ দিন পর (বর্তমানে) টেস্ট রিপোর্ট পাবেন। বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার জন্য এখন দেশেই IELTS- এর খাতা দেখা হচ্ছে।

কোথায় ভর্তি হবেন IELTS কোর্স করতে চাইলে প্রথমত নিজে নিজে বই (tutorials) পড়ে, ক্যাস্টে শুনে চেষ্টা করতে পারেন। যদি তা সম্ভব না হয় তবে ঢাকার ভালো কোন কোচিং সেন্টারেও ভর্তি হতে পারেন।

কোথায় রেজিস্ট্রেশন করবেন IELTS-G পরীক্ষা দেয়ার জন্য আপনি British Council- এ যোগাযোগ করে রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন। ঠিকানা হলো: British: Council, 5 Fuller Road, Dhaka. (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভিতরে)।

পরীক্ষা দিতে কি কি প্রয়োজন পড়বে IELTS দিতে আপনার একটি বৈধ Passport প্রয়োজন। আর দরকার তিন কপি P. P সাইজ রঙিন ছবি। Passport এর প্রথম চার Page –এর Photocopy দিলেও চলে। এসব প্রয়োজন যখন আপনি রেজিস্ট্রেশন করবেন। মনে রাখবেন ছবি তোলার সময় স্টুডিওর ফটোগ্রাফারকে বলে দেবেন যেন আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড কালারটি সাদা হয় এবং যদি আপনার চোখে চশমা বা সানগ্লাস বা মাথায় ক্যাপ কিছু থাকে তবে তা খুলে তারপর ছবি তুলুন। আপনার যা যা প্রয়োজন তা হলো :

1. পাসপোর্ট (ছয় মাসের ভ্যালিডিটি আছে এমন)।
2. পূরণ করা IELTS ফর্ম
3. তিন কপি ছবি
4. পাসপোর্টের চার পৃষ্ঠার ফটোকপি। MRP পাসপোর্ট হলে প্রথম পৃষ্ঠার ফটোকপি।
5. IELTS ফি (বর্তমানের ফি ১৩০০০+ টাকা)।

পরীক্ষা কিভাবে দেবেন? রেজিস্ট্রেশন করার পর আপনার কাজ শেষ। আপনি বাড়িতে বসে Practice করতে থাকুন। পরীক্ষার আগে আপনার মোবাইল নম্বরে British Council একটি ম্যাসেজ পাঠাবে। এই ম্যাসেজে পরীক্ষার তারিখ ও সময় জানিয়ে দেয়া হবে আপনাকে। তারিখ অনুযায়ী আপনি পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হবেন।

British Council – এর কয়েকটি ভেন্যু বা কেন্দ্র আছে যেখানে IELTS-এর পরীক্ষা নেয়া হয়। এসব কেন্দ্রে আপনার সিট পড়লে আগেই ম্যাসেজ এর মাধ্যমে তা জেনে যাবেন আপনি। British Council –এ IELTS পরীক্ষা সব সময় শনিবারে হয়। Speaking Test টি অন্যদিন, শনিবারের আগে বা পড়ে হতে পারে।

পরীক্ষাগুলি কেমন?

আগেই বলেছি IELTS-G চারটি মডিউল আছে :

□ Listening = ৩০ মিনিট

□ Reading = ৬০ মিনিট

□ Writing = ৬০ মিনিট

□ Speaking = ১৫ মিনিট

IELTS- এর পরীক্ষা শুরু হয় লিসিনিং মডিউল দিয়ে আপনি ব্রিটিশ কাউন্সিল হলে বা আপনার টেস্ট সেন্টারে প্রবেশ করার পর ব্রিটিশ কাউন্সিলের অফিসারগণ আপনাকে কিছু ইন্সট্রাকশন দেবেন। ইন্সট্রাকশন পর্ব শেষ হলে শুরু হবে আপনাকে কিছু ইন্সট্রাকশন দেবেন। ইন্সট্রাকশন পর্ব শেষ হলে শূরু হবে আপনার লিসিনিং টেস্ট। আপনার জন্য বরাদ্দ থাকবে একটি-টেবিল একটি চেয়ার, একটি হেডফোন, একটি কোশ্চেন পেপার ও একটি অ্যানসার পেপার। হেডফোনটি ওয়ারলেস হেডফোন যা একটি রিমোট সেন্সরের মাধ্যমে কাজ করে। আপনাকে যখন হেডফোনটি দেয়া হবে তখন আপনি চেক করে দেখে নেবেন যে হেডফোনটি ঠিকমতো কাজ করছে কিনা। কারণ একবার পরীক্ষা শুরু হয়ে গেলে আপনি আর কোনো অভিযোগ করতে পারবেন না।

পরীক্ষা চলবে ৩০ মিনিট। আপনি হেডফোনে শুনবেন এবং পাশাপাশি আপনার কোশ্চেন শিট অ্যানসার করবেন। মনে রাখবেন সব পরীক্ষা আপনি দেবেন পেনসিলে। পরীক্ষা শেষে কোশ্চেন শিট থেকে অ্যানসার শিটে উত্তর ট্রান্সফার করার জন্য আপনাকে বাড়তি দশ মিনিট সময় দেওয়া হবে। আপনি আপনার অ্যানসার পেপারে উত্তরগুলো ট্রান্সফার করার পর আপনার লিসিনিং পর্বি শেষ হয়ে যাবে। মনে রাখবেন যে, আপনি যখন হেডফোনে শুনবেন তখনই আপনাকে উত্তরগুলো কোশ্চেন পেপারে তুলতে হবে। সরাসরি উত্তরগুলো উত্তরপত্র বা অ্যানসার পেপারে তুলবেন না। কোশ্চেন পেপারে করা উত্তর, তোলার জন্য আপনি দশ মিনিট সময় তো পাচ্ছেন। সেই দশ মিনিট সময়েই উত্তরগুলো উত্তরপত্রে ট্রান্সফার করুন। তার আগে নয়।

IELTS- এর দ্বিতীয় পর্বে থাকা রিডিং মডিউল ডলসিনিং পর্ব শেষ হয়ে গেলেই শুরু হয়ে যাবে রিডিং পর্ব। রিডিং মডিউল হলো তিনটি প্যাসেজের সমন্বয়ে গঠিত একটি টেস্ট। রিডিং টেস্টটি হবে এক ঘন্টার একটি টেস্ট। তবে লিসিনিং মডিউলের মতো পরীক্ষা শেষে আপনাকে কোনো বাড়তি সময় দেয়া হবে না উত্তরপত্রে উত্তর ট্রান্সফার করার জন্য। ধরুন, আপনি এক ঘন্টার রিডিং পরীক্ষা শেষে কোশ্চেন পেপারে করা উত্তর গুলো অ্যানসার পেপার ট্রান্সফার করতে গেলেন, কিন্তু সেক্ষেত্রে আপনার কাছ থেকে কোশ্চেন পেপার কেড়ে নেয়া হবে এবং আপনি রিডিং পরীক্ষায় কোন নম্বর পেলেন না। অর্থাৎ রিডিং মডিউলে আপনি পেলেন শূণ্য। ফলাফল হলো আপনি রিডিং মডিউলে খারাপ করলেন এবং আপনার মূল ব্যান্ড স্কোরটি নেমে গেল নিচে। তাই মনে রাখবেন যদিও বলা হয়ে থাকে যে, রিডিং মডিউলটি এক ঘন্টার কিন্তু আসলে সেটি পঞ্চাশ মিনিটের টেস্ট। উত্তরপত্রে উত্তর ট্রান্সফার করার জন্য আপনার প্রয়োজন হবে দশটি মিনিট। তাই এটিকে পঞ্চাশ মিনিটের টেস্ট বলাই ভালো। তাই এক ঘন্টার মধ্যে আপনার উত্তরপত্রে বা অ্যানসার পেপারে অ্যানসার তোলা শেষ হতে হবে। আর একটি কাজ আপনি করতে পারেন তাতে আপনার সময়ের সাশ্রয় হবে। আপনি রিডিং পড়ার পাশাপাশি সরাসরি অ্যানসার পেপারেও উত্তরগুলো তুলে ফেলবেন। তাহলে এক ঘন্টার টেস্ট আপনার জন্য এক ঘন্টারই থাকবে। আপনার বাড়তি কোনো সময়ের প্রয়োজন পড়বে না। রিডিং মডিউলের জন্য আসলে কোশ্চেন পেপারে উত্তর লেখার প্রয়োজন নেই।

IELTS- এর তৃতীয় পর্বে থাকে রাইটিং মডিউল অ্যাকাডেমিক রাইটিং এ যে দুটি ধরনের লেখা আপনাকে লিখতে হয় তা হলো Task 1 ও Task 2| এই মডিউলটিও এক ঘন্টার। আপনাকে প্রথমে Task 1 ও পেও Task 2 কমপ্লিট করতে হবে। Task 1 বিশ মিনিট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে ও Task 2 শেষ করতে হবে চল্লিশ মিনিট সময়ের মধ্যে। অ্যাকাডেমিক রাইটিং এর প্রথম পার্র্টটিকে বলা হয় অ্যানালিটিক্যাল (Analitical) বা ব্যাখ্যামূলক লেখা। বর্ণনামূলক লেখায় আপনি সময় পাবেন বিশ মিনিট ও ব্যাখ্যামূলক লেখায় সময় পাবেন চল্লিশ মিনিট। বর্ণনামূলক লেখায় আপনাকে দেয়া হবে একটি চার্ট, গ্রাফ, ছবি বা ম্যাপ যা আপনাকে ঝুঝে তা লিখতে হবে কাগজে। ব্যাখ্যামূলক লেখায় আপনাকে দেয়া হবে একটি সাবজেক্ট বা বিষয় যা পড়ে আপনাকে বিষয়টির পক্ষে বা বিপক্ষে লিখতে হবে। বর্ণনামূলক লেখায় আপনার সর্বনিম্ন শব্দসংখ্যা হতে হবে ১৫০টি এবং ব্যাখ্যামূলক লেখায় শব্দসংখ্যা হতে হবে ২৫০টি। অর্থাৎ প্রথম পর্বে বিশ মিনিট সময়ের ভেতর আপনাকে লিখতে হবে একটি লেখা যার শব্দসংখ্যা যার শব্দসংখ্যা হতে হবে কমপক্ষে ১৫০টি ও দ্বিতীয় পর্বে সময় থাকবে চল্লিশ মিনিট এবং শব্দসংখ্যা হতে হবে কমপক্ষে ২৫০টি। রাইটিং মডিউলের জন্যও আপনাকে একটি কোশ্চেন পেপার ও একটি অ্যানসার পেপার দেয়া হবে। রাইটিং মডিউল শেষ হবার সাথে সাথে আপনার পরীক্ষাও শেষ হযে যাবে। তবে স্পিকিং মডিউলটি রয়ে যাবে। সেটি অন্য যে কোনো একদিন নেয়া হবে।

IELTS- এর চতুর্থ পর্বে স্পিকিং মডিউল

স্পিকিং মডিউলের জন্য অন্য যেকোনো একদিন সময় দেয়া হবে আপনাকে। হতে পারে সেটি সকালে কিংবা বিকালে। তবে আপনার জন্য সময় থাকবে মাত্র পনেরো মিনিট সময়ের ভিতর আপনাকে মোটামুটি তিনটি ভাগে পরীক্ষা দিতে হবে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই ভাগের পরীক্ষাগুলি এক নিমিষেই শেষ হয়ে যাবে যদি সঠিকভাবে আপনি প্রস্তুতি নিতে পারেন।

IELTS- এর এই মডিউলটির প্রথম পরীক্ষা হলো শর্ট অ্যানসার কোশ্চেন। আপনি পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করার সাথে সাথেই পরীক্ষক আপনার পাসপোর্ট দেখতে চাইবেন। আপনি পাসাপোর্টটি ফিরিয়ে নেবার সাথে সাথে আপনার পরীক্ষা শুরু হয়ে যাবে। আপনি দেখতে পাবেন আপনার সামনে টেবিলের ওপর একটি টেপরেকর্ডার রাখা আছে। আপনার ও পরীক্ষকের কথোপকথন শুরু হবার সাথে সাথে এটি চালু করে দেবেন পরীক্ষক যেন আপনার কথাগুলো রেকর্ড করা যায়। এই কথাগুলো রেকর্ড করা হয় এই কারণে যে, আপনি যদি আপনার স্কোর নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলকে চ্যালেঞ্জ করেন তবে এই রেকর্ডেড ক্যাসেটটিই হবে তার প্রমাণ। যাইহোক, আপনার পরীক্ষা শুরু হবার সাথে সাথে পরীক্ষক আপনাকে ছোট ছোট প্রশ্ন করবেন যেমন আপনি কোথায় থাকেন বা কেন পরীক্ষা দিতে চাচ্ছেন ইত্যাদি। প্রশ্নগুলো অবশ্যই তিনি ইংরেজীতে করবেন এবং আপনাকেও উত্তর দিতে হবে ইংরেজীতে। আমরা এসব প্রশ্ন ও উত্তর স্পিকিং মডিউলে আলোচনা করেছি। এই পর্ব শেষ হবার পর আপনি প্রবেশ করবেন দ্বিতীয় পর্বে যেখানে আপনাকে একটি কিউ কার্ড (queue card) দেয়া হবে এবং এক মিনিট সময় দেয়া হবে। এক মিনিট সময় এর মধ্যে আপনি উক্ত বিষয়ে কিছু ভাববেন বা চিন্তা করবেন এবং তার পরবর্তী এক কিংবা দেড় মিনিটের মধ্যে তা বলবেন। আপনি যা বলবেন তাও রেকর্ড করা হবে। এই কিউ কার্ড বিষয়টিই ছাত্র-ছাত্রীদের মনে ভীতির সৃষ্টি করে কারণ আপনাকে যা বলতে হবে তা সম্পূর্ণ নতুন একটি বিষয় বলে মনে হতে পারে আপনার কাছে, যা বলতে হবে তা মাত্র এক মিনিটের মধ্যে গুছিয়ে নিয়ে মাত্র এক বা দেড় মিনিটের মধ্যে বলতে হবে। অবশ্যই এটি সকল ছাত্র-ছাত্রীর জন্য একটি বিষয়। তবে সময় নিয়ে নিয়ে অনুশীলন করে আপনি এই বিষয়টিও একটি বিশেষ ড্রিলের মাধ্যমে প্রাকটিস করতে পারেন।

যাহোক, আপনি কিউ কার্ডের ভিতর লেখা সাবজেক্টটি নিয়ে এক মিনিট বক্তব্য প্রদান করার পর তৃতীয় পর্বে প্রবেশ করবেন। এই তৃতীয় পর্বটি রিভিউ প্রশ্নের পর্ব। এরমানে আপনি কিউ কার্ডে যে বিষয়ে বলেছিলেন সেখান থেকে বেছে নিয়ে কিছু প্রশ্ন করা। পরীক্ষক আপনার উত্তর এর ভিতর থেকে প্রশ্ন খুঁজে নিতে পারেন বা নিজে থেকে কোনো প্রশ্ন করতে পারেন। যে প্রশ্ন করুন না কেন তৃতীয় পর্বটি স্বাভাবিকভাবেই অন্যদুটি পর্বের চেয়ে কঠিন হবে। কারণ এই পর্বে পরীক্ষক একটু জটিল ধরনের প্রশ্ন করে থাকেন।

এর সাথে সাথে শেষ হয়ে যাবে আপনার IELTS- এর সব পরীক্ষা।

READING MODULE (CRASH AND OVERALL PRACTICE)

IELTS- এর Reading মডিউলটি একটু কঠিন কারণ এতে একঘন্টা সময়ের মধ্যে প্রায় চল্লিশটি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয়। আবার Q. Paper-এ Answer লেখার পর Answer গুলি Answer Sheet–এ ট্রান্সফার করতে হয়। Reading মডিউলের মূল বিষয়টি হলো আপনাকে তিনটি Passage দেওয়া হবে। এই তিনটি Passage পড়ে আপনাকে Answer করতে হবে। আগেই বলা হয়েছে যে, IELTS- এর সবকটি মডিউলের মধ্যে Reading মডিউলটি সবার জন্যই বেশ কঠিন। কেন কঠিন এর কারণগুলো এক এক করে বর্ণনা তো করা হবেই, পাশাপাশি এই সমস্যার সমাধানগুলোও দেয়া হবে। তাহলে আসুন, আমরা রিডিং মডিউলে চলে যাই এবং আগে দেখে নেই রিডিং মডিউলটি আমাদের কাছে কঠিন কেন মনে হয়।

১। Reading মডিউল-এ তিনটি প্যাসেজ দেয়া হয়ে থাকে এবং প্রতিটি প্যাসেজেই এদিক সেদিক থেকে ৪০০০ শব্দ নিয়ে গঠিত। এর অর্থ এই যে, আপনাকে প্রায় ১২০০০ শব্দের একটি রিডিং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হচ্ছে।

২। Reading মডিউল-এ এই ১২০০০ শব্দের পরীক্ষায় আপনাকে দেয়া হচ্ছে মাত্র ১ ঘন্টা সময় যা আপনার জন্য খূবই কম সময়।

৩। Reading মডিউলের তিনটি প্যাসেজ যে সমস্ত ভোকাবুলারী ব্যবহার করা হয়ে থাকে তা অত্যন্ত কঠিন বলে মনে হয় আপনার কাছে এর কারণ এই সমস্ত শব্দ ইংরেজী ভাষাভাষী দেশসমূহে ইউনিভার্সিটির বইসমূহে থেকে থাকে।

৪। আমাদের দেশে প্রথাগত পড়াশোনায় আমরা যে ধরনের কোশ্চেন স্ট্রাকচার দেখি Reading মডিউল এ ধরনের স্ট্রাকচার খূব কমই আছে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে আমরা কিভাবে প্রশ্নের উত্তর করবো তাই বুঝতে পারি না।

৫। Reading মডিউল এর পরীক্ষায় খারাপ করার একটা বড় কারন হলো আমরা জানি না যে পরীক্ষাটি পঞ্চাশ মিনিটে শেষ করে বাকি দশ মিনিটে অ্যানসার পেপারে ট্রান্সফার করতে হয়। ফলে যখন ১ ঘন্টার টেস্ট শেষ হয় তখন আর উত্তরপত্রে উত্তর লেখার সময় থাকে না।

৬। পড়ে বোঝার অক্ষমতা সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে Reading মডিউল এ খারাপ স্কোর করার জন্য। এক্ষেত্রে স্পেলিং বড় ভূমিকা পালন করলেও শব্দ পড়ে ভূল অর্থ করলে তা হয়ে ভিন্ন এবং মূল প্যাসেজের কাছ থেকে দূরে সরে যেতে হয়। গ্রামারের মূল কাঠামোগত অর্থ বুঝতে না পারার কারণেও আপনার অনেক মার্কস কাটা যায়।

লেখকঃ-
Facebook: https://www.facebook.com/otopor.rajib

Advertisements

student.living in Chittagong, Bangladesh. fan of technology, photography, and music.interested in cricket and travel.

Tagged with: , , ,
Posted in পড়াশোনা

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

ব্লগ বিভাগ
ব্লগ সংকলন
%d bloggers like this: