ফেসবুক সেলিব্রিটি

ফেসবুক সেলিব্রিটিরা প্রত্যেকে এক এক জন সক্রেটিস। তারা সকলেই যৌথভাবে “বুদ্ধিজীবী নোবেল পুরুস্কার” পাওয়ার যোগ্য। অনেকেই তাদের সম্মান করে ‘লাইক’, ‘কমেন্ট’, ও ‘স্যালুট’ ভিক্ষা দেয়। অনেক লুতুপুতু ললনা আদোর করে ‘কিউট’ লিখে মন্তব্য ছুড়েমারে।

ইতিহাসঃ সেলিব্রিটিদের একটা সুদীর্ঘ ইতিহাস আছে। আনুমানিক ২০১০ খৃস্টাব্দে তাদের প্রথম আবির্ভাব হয়। এই সুদীর্ঘ ইতিহাসকে আবার তিনটি যুগে ভাগ করা যায়। এগুলো যথাক্রমে প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগ।

প্রাচীন যুগঃ আনুমানিক ২০১০ খৃষ্টাব্দ থেকে ২০১২ খৃষ্টাব্দের মাঝামাঝি সময়কে সেলিব্রিটিদের প্রাচীন যুগ হিসেবে ধরা হয়। এ সময়ের সেলিব্রিটিরা সাধারণত “রোমান্টিক ছ্যাকা মার্কা ইমসনাল” স্টাটাস দিত। তাদের একটি বিশেষ গুণ হলো তারা একি গল্পে অসম্ভব রোমান্টিকতা, গুরুতর ছ্যাকা ও বেসম্ভব ইমসন সঞ্চার করতে পারতেন। যার ফলে আম, কলা, আপেল ও লিচু ফেসবুকারদের অশ্রু অপচয় হতো। যার জন্য তৎকালিন ক্ষমতাবান ব্যক্তিবর্গ এ যুগের সমাপ্তি ঘটিয়ে চেতনাময় মধ্যযুগের সূচনা করেছিলেন।

মধ্যযুগঃ মধ্য যুগের অপর নাম চেতনা যুগ। এ যুগের সেলিব্রিটিদের চেতনাবান ফেসবুক সেলিব্রিটি হিসেবে ধরা হয়। আনুমানিক ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে কিছু চেতনাধারি ফেসবুক সেলিব্রিটির জন্ম হলেও লাইক কমেন্ট শেয়ারে তারা সে সময় খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারেননি। হঠাৎ ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের ৫ই ফেব্রুয়ারি একটি চেতনা বিপ্লব হয়ে যায়। যার মাধ্যমে অবহেলিত চেতনা যুগের সেলিব্রিটিরা সস্থির নিশ্বাস ফেলে। তাদের স্টাটাসের লাইক কমেন্ট ও শেয়ার এর বাম্পার ফলন হয়। এর কিছুদিন পরেই একই বছর ৫ই মে আরেকটি চেতনা বিপ্লব হয়। চেতনাবাদি সেলিব্রিটিরা দিকে দিকে চেতনা মঞ্চ গড়ে তোলেন। গ্রুপ পিকচার আপলোডের মাধ্যমে নিজেদের মহান চেতনাবাদি হিসেবে পরিচয় দিতে আগ্রহী হয়ে উঠেন (তখনও সেলফির আগমন ঘটেনি)। চেতনাবাদি ফেসবুক সেলিব্রিটিরা এতো লাইক রাখার যায়গা পাচ্ছিলেননা। তাই লাইক রাখার জন্য বিভিন্ন অনুভতি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। যার মধ্যে “ধর্মানুভতি ব্যাংক আনলিমিটেড”, “সংখ্যালঘু ট্রাস্ট অনুভতি ব্যাংক আনলিঃ”, “চাটার্ড মুক্তিযুদ্ধ ট্রাস্ট ইনস্যুরেন্স(C MUTI)” ইত্যাদি তৎকালীন ব্যাংক বেশি উল্যেখযোগ্য। এসব ব্যাংকের কেন্দ্রিয় ব্যাংক ছিল “বাংলাদেশ চেতনা ব্যাংক লিঃ”। ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বলা হয় “চেতনার স্বর্ণ যুগ”।

অধুনিক যুগঃ ২০১৪ খ্রিস্টাব্দের প্রথম থেকে এই ফেসবুক সেলিব্রিটিরা মাথাচাঁড়া দিয়ে ওঠে। এদের কাজ সকলের পুটুতে লাইক দিয়ে বেড়ান। এদের লাইকের সংখ্যা কিছু কমে গেলেও নতুন সৃষ্ট “add me” জনগোষ্ঠী তা বুঝতে দেয়না। এরা সবসময় সমাজ সংস্কারে মহা ব্যাস্ত থাকেন। এদের বেশিরভাগি ধর্মবিদ্বেষী, অল্পসংখক নাস্তিক বিদ্বেষী।

প্রাপ্তিঃ ফেসবুক সেলিব্রিটিদের প্রাপ্তির কথা লিখে শেষ করা যাবেনা। মহান সেলিব্রিটি মইনুদ্দিন সাহেবের মতে, “এতো স্যালুট পাই মনে হয় সারাদিন আর্মি ক্যাম্পে থাকি”। আরেক সেলিব্রিটি গর্ব করে বলেন, “আমার লাইকের পরিমান, বিল গেটসের ট্যাকার চাইতে বেশি”। তারা অনেক লাইক, কমেন্ট, শেয়ার, স্যালুটের পাশাপাশি মোসারফ করিম, ডিপজল, গার্মেন্টস কর্মি মহা নায়ক অনন্ত জলিলের সহ অনেকের ফোট কমেন্ট পেয়ে থাকেন।

চরিত্রঃ এরা কেউ কেউ নম্র, ভদ্র, শান্ত শিষ্ট, সামনের দিকে ৪-৫ ইঞ্চি লেজ বিশিষ্ট প্রানী। আবার কেউ কেউ বেশ উগ্র। এদের সবচেয়ে বড় গুণ এরা যা লেখে নিজেদের চরিত্র ঠিক তার বিপরিত।

শেষ কথাঃ এদের সম্পর্কে বলে শেষ করা যাবেনা। এদের কোনো শেষ নেই। ফেসবুকে এরা অমরত্ব লাভ করেছে। মানুষ প্রজাতির বিলুপ্তি হলেও এদের হবেনা। ধারনা করা হচ্ছে আগামিতে এদের মধ্যথেকেই ফেসবুকের সরকার নির্বাচন করা হবে

Fb.com/netfuker

Advertisements

student.living in Chittagong, Bangladesh. fan of technology, photography, and music.interested in cricket and travel.

Posted in কপি-পেস্ট, সমালোচনা

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

ব্লগ বিভাগ
ব্লগ সংকলন
%d bloggers like this: