সাভার ট্র্যাজেডিঃ প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে অলস ঘুমাচ্ছে একশ পাঁচ কোটি টাকা

 

রানা প্লাজা ধসে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণ পাবেন কী না, তা নিয়ে আজও সন্দেহ? রানা প্লাজার ঘটনাটিকে বিশ্বে ৩য় বৃহত্তম শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে রানা প্লাজা ধসে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ত্রাণ তহবিলে জমা হওয়া টাকার মধ্যে একশ কোটিরও বেশি টাকা এখনো বণ্টন করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় একশ পাঁচ কোটি টাকা তার তহবিলে অলস পড়ে থেকে ‘ঘুমাচ্ছে’।

গত বছরের ২৪ এপ্রিল সাভারের যুবলীগ নেতা সোহেল রানার মালিকানাধীন রানা প্লাজায় ঘটে স্মরণকালে ভয়াবহতম দুর্ঘটনা। ওই ট্র্যাজেডিতে সেদিন এক হাজার ১৩২ জন পোশাক শ্রমিকের করুণ মৃত্যু হয়। এখনো নিখোঁজ রয়েছে প্রায় ১৮২ শ্রমিক। এই ঘটনা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মানবসৃষ্ট বিপর্যয়। এ ঘটনায় শুধু বাংলাদেশই নয়, স্তম্ভিত হয়েছিলো গোটা বিশ্ব। ভয়াবহ এ ট্রাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অনেক আশার বাণী শোনা গিয়েছিল। এ নিয়ে অনেক শ্রমিক সংগঠনের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। তবে রাজনৈকি চাপে অনেক সংগঠনের আন্দোলন থেমে গেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

তিন দফায় এ আন্দোলন করার কথা ছিলো। প্রথম অবস্থায় থাকবে রাজপথে আন্দোলন, এর পর জনমত সৃষ্টি ও আইনি লড়াই। এগুলোর সব কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও করেছিল শ্রমিক সংগঠনগুলো। কিন্তু পরে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবি বাস্তবায়ন ও রাজনীতির তীব্র ঝড়ে সবার দৃষ্টি চলে যায় সেদিকে। ফলে এর কোনোটিই বাস্তবায়ন করতে পারেনি শ্রমিক সংগঠনগুলো।

এর বাইরেও শ্রমিক সংগঠনগুলো যেসব দাবি তুলছিল তা হচ্ছে রানা প্লাজায় নিহত ও আহতদের ‘লস অব ফিউচার আর্নিং’ ও ‘পেইন অ্যান্ড সাফারিং’ নীতিমালা ও আইএলও এর কনভেনশন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ। কিন্তু তা আজো বাস্তবায়ন হয়নি। এর পরেও ক্ষতিগ্রস্তরা যেটুকু পেয়েছেন এটি শ্রমিক সংগঠনগুলোর আন্দোলনেরই ফসল।

গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু জানান, শ্রমিক সংগঠনগুলো শ্রমিকদের দাবির জন্য যে কোনো আন্দোলন করলে তাদের মামলায় জড়িয়ে দেয়। আমি নিজে ৩০টি মামলার আসামি। তাহলে শ্রমিকদের অধিকার কীভাবে প্রতিষ্ঠা হবে?

তবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, তার ব্যক্তিগত ত্রাণ তহবিলে সাভারের রানাপ্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সর্বমোট একশ ২৭ কোটি ৬৭ লাখ তিন হাজার তিনশ ৪৯ টাকা জমা হয়েছে। কিন্তু তা থেকে তিনি ব্যয় করেছেন মাত্র ২২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। বাকি টাকা তিনি কেন ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের মধ্যে বণ্টন করেননি?
তিনি আরো জানান, শ্রমিকদের ‘লস আফ আর্নিং’ বাবদ ৪৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

Advertisements

student.living in Chittagong, Bangladesh. fan of technology, photography, and music.interested in cricket and travel.

Posted in সমালোচনা

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

ব্লগ বিভাগ
ব্লগ সংকলন
%d bloggers like this: