~ গুগলের চাকুরি, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ, এবং ব্রান্ডিং ~

Ragib Hasan

নানা সাইন্স ফিকশনে নতুন ধরণের সমাজের কথা পড়ি, যেখানে বিজ্ঞানীরা নীতিনির্ধারক, রাজনীতি হয়ে গেছে বৈজ্ঞানিক, ইত্যাদি ইত্যাদি। সেরকম সাইন্স ফিকশনের জগতে আমরা কখনো পৌছাবো কিনা তা জানিনা, কিন্তু একটা জায়গায় আমরা ইতিমধ্যেই পৌছে গেছি, তা হলো জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও অর্থনীতি।

জ্ঞানভিত্তিক সিস্টেমে ঐতিহ্য নয়, ভূগোল নয়, বরং জ্ঞানই শক্তি। যার জ্ঞান আছে, সেই ক্ষমতাবান।

ব্যক্তিগত পর্যায়েও জ্ঞান ও দক্ষতার মূল্য গায়ে লেগে থাকা তকমা কিংবা বংশপরিচয়ের চাইতে বেশি, সম্প্রতি গুগলের হায়ারিং প্রসেসের পরিবর্তন সেটারই প্রমাণ দেয়।

গুগলে চাকুরি পাওয়াটা ছিলো এক সময় কেবল “অভিজাত”, “নামকরা” বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের কপালে। আইভি লীগ, কিংবা এমআইটি, স্ট্যানফোর্ড, বার্কলের মতো বাঘা বাঘা জায়গার ডিগ্রি না থাকলে সে চাকুরি পাওয়ার আশা ছিলো কম। কিন্তু কিছুদিন পরে দেখা গেলো, হিসাব তো মিলছেনা। নামকরা জায়গার ডিগ্রি থাকলেই সে ভালো প্রোগ্রামার হবে, অথবা ভালো রেজাল্ট নিয়ে আসলেই কাজে কর্মেও সে দক্ষ হবে, তার কোনোই গ্যারান্টি নাই। গুগল তার কর্মীদের কাজের আউটপুট যাচাই করে যা দেখলো তা হলো, খুব বেশী ভালো ফলাফল করে আসা “ভালো ছাত্র” দের চাইতে বরং মাঝারি মানের ছাত্ররা ভালো কাজ দেখাচ্ছে। এর কারণটা খুব ইন্টারেস্টিং। যারা ছাত্রজীবনে সব সময়ে সফল হয়েছে, তারা ব্যর্থতা কাকে বলে তা বুঝে না। কিন্তু বাস্তব জীবনে তো পদে পদে ব্যর্থতা আসবেই। এসব তথাকথিত “ভালো ছাত্র”দের সমস্যা হলো তারা সব সময় ভালো গ্রেড পেয়ে আসায় ব্যর্থতা থেকে শেখার অভ্যাসটা তাদের নাই। নিজের ভুলের কারণে একটা প্রজেক্টে সমস্যা হতে পারে, সেটা তারা বিশ্বাস করতে পারেনা সহজে, ফলে অন্যের কারণে সমস্যা হয়েছে প্রজেক্টে, সেই অজুহাত খুঁজে বেড়ায়। আর অন্যের মতকে সম্মান দেয়া, জুনিয়র কারো কাছ থেকেও কিছু শেখা যায়, সেই ব্যাপারটা মেনে নিতে এদের হয় কষ্ট।

ফলে গুগল এখন তার হায়ারিং প্রসেসে পরিবর্তন এনেছে। তারা এখন কর্মী নিয়োগের সময় কোন ইউনিভার্সিটির সিল ছাপ্পর লাগা কারো গায়ে, তার চাইতে বরং সেই কর্মীটি কী জানে, তাই দেখে বেশি। তার উপরে টিমওয়ার্কে, অন্যদের সাথে কাজ করতে, অন্যদের কথা ঠিক হলে তা মেনে নিতে কেউ কেমন সক্ষম, সেটাকেই গুগল এখন জিপিএ বা পরীক্ষার ফলাফলের চাইতে বেশি গুরুত্ব দেয়।

বাংলাদেশে এখনো আভিজাত্য, বংশপরিচয়ের জয়জয়কার। কে খানবাহাদূর বংশের, কে চৌধুরী সাহেব, আবার কে কোন কুলীন বিউশ্ববিদ্যালয়ের, সেটাই পায় গুরুত্ব। কিন্তু জ্ঞান ভিত্তিক যে সমাজের দ্বারপ্রান্তে আমরা দাঁড়িয়ে, সেই সমাজে এসব কৌলিণ্যের ভূমিকা কমই। বরং কার দক্ষতা কী, সেটাই তার পরিচয়। ব্রান্ডিং এর দিন চলেছে অস্তাচলে।

তাই নতুন প্রজন্মের তরুণ আর শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ – ব্রান্ডিং নিয়ে মাথা ঘামানো বাদ দিন। আপনি কি জানেন, সেটাই আপনার শক্তি। কোন জায়গার থেকে এসেছেন, বাস্তব জীবনে, কর্ম ক্ষেত্রে সেটার ভূমিকা কমই হবে। দেশের ভিতরে, বাইরে পছন্দের জায়গায় ভর্তি হতে না পারলে জীবন শেষ, সেই ভাবনাটা তাই বাদ দিন। গুগল তা পেরেছে। বাকিরাও অচিরেই তা পারবে।

কারণ, জ্ঞানই শক্তি, জ্ঞানই ভবিষ্যত।

Advertisements

student.living in Chittagong, Bangladesh. fan of technology, photography, and music.interested in cricket and travel.

Posted in প্রিয় ব্যক্তিত্ব

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

ব্লগ বিভাগ
ব্লগ সংকলন
%d bloggers like this: