ফিলিস্তিনে আর কত শিশু মারা গেলে জাতিসংঘ মুখ খুলবে ?

ঘটনাঃ ১।
স্হানঃ গাজা , ফিলিস্তিনী
২৯ অক্টোবর,২০০০
ফারিস উদেহের বয়স তের বছর ।জন্মের পর থেকে সে একে একে লাশ হতে দেখেছে স্বজাতিদের।
নিরস্ত্র শিশুটি গাজার কারনি ক্রসিং-এর কাছে ইসরাইলী একটি ট্যাঙ্কের সামনে পাথর হাতে দাঁড়িয়ে যায়।ট্যাংক লক্ষ্য করে পাথরটা ছুঁড়ে গাজার ওই কিশোর ইসরাইলীদের জানিয়ে দেয়, ‘তোমাদের অস্ত্রের চেয়ে আমাদের
সাহস অনেক শক্তিশালী।’
দৃশ্যটি ক্যামেরায় ধারণ করেন বার্তা সংস্থা এপির ফটোগ্রাফার
লরেন্ট রেবুর্স।
অসীম সাহসী ঐ শিশুর ছবিটি সে সময় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
কিন্তু ইসরাইলী সেনারা ঐ ঘটনার ১০ দিন পর ফারিস উদেহকে খুঁজে বের করে এবং গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে।
ঘটনাঃ দুই।
উত্তপ্ত দুপুর বেলা। ২০০০ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর জামাল আদ্ দোরা নামের ১০ বছর বয়সী এক শিশু যখন তার পিতার সাথে বাড়ি ফিরছিল।সে সময়ে
ইসরাইলী সেনাদের সাথে ফিলিস্তিনী যোদ্ধাদের সংঘর্ষ চলছিল।পিতাপুত্র যখন গাজা উপত্যকার নেটজারিম জংশন এলাকায় পৌছে তখন টহলরত ইসরাইলী সেনাদের সামনে পড়ে যায়।
আদ দোরাকে বাঁচানোর জন্য তার পিতা একটি দেয়ালের পাশে অবস্থান নেয়।ইসরাইলী সেনাদের ভয়ে আদ দোরা তার পিতার পেছনে লুকায়।কিন্তু তারপরও
পাষন্ড ইসরাইলী সেনারা তাকে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে কুকুরের মত অত্যাচার হত্যা করে।সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে পিতাও গুলিবিদ্ধ হন।
ছোট শিশুটির মায়াভরা মুখ দেখেও তাদের মনে দয়ামায়ার উদ্রেক হয় নি ।
বন্দুক উচিয়ে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেয় শিশুটিকে।
পিতার সামনেই নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয় ১০ বছর
বয়সী পুত্রকে।
ঘটনাঃ তিন ।
শুনে অবাক হবেন ইসরায়েলের বন্দী শিবিরে সবচেয়ে ছোট বন্দীর বয়স ছিলো সাত মাস।তার মাকে কারাগারে দেয়ার সময় সে পেটে ছিলো।
আর তার জন্ম ঐ কারাগারেই।
আর কারাগারে তার নামও ঠাঁই পেয়েছে অপরাধীর তালিকায় ।
নিশ্পাপ ঐ শিশুটির কি কোন অপরাধ থাকতে পারে ?
কিন্তু অবশ্যই সে অপরাধী।
তার অপরাধ কি জানেন ?
সে ফিলিস্তিনী শিশু ।
ইসরায়েলি সৈন্যরা তাদের শ্যুটিং প্রাকটিস করে এসব শিশুদের ওপর । আসুন উইকিপিডিয়া ও মিডিয়া থেকে কিছু পরিসংখ্যানের ওপর নজর বুলিয়ে নেইঃ
‪#‎গাজার‬ সাম্প্রতিক যুদ্ধেই প্রায় ৪শ শিশু মারা গেছে- যাদের সবার বয়স দশ বছরের কম।
# ২০০০-২০১৩ সালে প্রায় দেড় হাজার ফিলিস্তিনী শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
# ইসরাইলের কারাগারে বর্তমানে প্রায় এক হাজার ফিলিস্তিনী শিশু আটক রয়েছে।
পাদটীকাঃ ফিলিস্তিনের বন্দি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র একজন মুখপাত্র বলেছেন,দুই হাজার সালে দ্বিতীয় ইন্তিফাদা বা গণ-আন্দোলন শুরুর পর থেকে ইসরাইলী সেনারা প্রায় ৮ হাজার ফিলিস্তিনী শিশুকে আটক করেছে এবং
এর মধ্যে প্রায় একহাজার শিশু এখনও ইসরাইলী কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
যেখানে নির্বিচারে শিশু হত্যা করা হয় সেখানে মানুষকে কিভাবে ছাড় দেয় ইসরায়েলিরা ?
ইহুদীরা কিন্তু সংখ্যায় কম কিন্তু তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ
মদদে চালিয়ে যাচ্ছে ঘৃনিত শিশুহত্যা ।
জাতিসংঘ পাকিস্তানের মালালা ইউসুফ জাঈকে মিডিয়ায় এনে পুরষ্কার দিয়ে ইউনিসেফের কার্যক্রমের উজ্জ্বল সাক্ষর রাখতে চায়।
কিন্তু
তাদের চোখে টিনের চশমা থাকে।
প্রচার ছাড়া কোন কাজে তাদের আগ্রহ থাকে না ।
পরিশেষে এডলফ হিটলারের একটি কথা বলে শেষ করতে চাইঃ
\”আমি চাইলে সব ইহুদীদের হত্যা করতে পারতাম,
কিন্তু আমি কিছু ইহুদী বাঁচিয়ে রেখেছি ।
কারণ,
পৃথিবীর মানুষ বুঝতে পারে,
আমি কেন ইহুদী হত্যায় মেতেছিলাম\”

Advertisements

Ainul Islam munna. student.living in Chittagong, Bangladesh. fan of technology, photography, and music.interested in cricket and travel.

Posted in সমালোচনা

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

ব্লগ বিভাগ
ব্লগ সংকলন
%d bloggers like this: