দুনিয়া কাঁপানো কিছু অন্যরকম প্রতিবাদ !!

প্রতিবাদ অন্যায়কে পরিবর্তন করার ভাষা। প্রতিবাদের মাধ্যমে পরিবর্তন সাধিত হয় সমাজে, সমাজ থেকে রাষ্ট্রে। রাষ্ট্রে যখন কোনো অন্যায়ের প্রতিবিধান হয় না সব অনুরোধ, উপরোধ, আহ্বান ব্যর্থ হয়, তখনই মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। সেই প্রতিবাদ হতে পারে শান্তিপূর্ণ কিংবা সহিংস। পৃথিবীতে কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে এই প্রতিবাদের মাধ্যমেই। আসুন দুনিয়া কাঁপানো কিছু প্রতিবাদ সম্পর্কে জেনেনিই:

ইসরাইলী  ট্যাঙ্কের সামনে পাথর হাতে এক ফিলিস্তিনি শিশু:

\"\"

২০০০ সালের ২৯ অক্টোবর ফারিস উদেহ নামের এক ফিলিস্তিনি শিশু গাজার কারনি ক্রসিং-এর কাছে ইসরাইলী একটি ট্যাঙ্কের সামনে পাথর হাতে দাঁড়িয়ে যায়। ট্যাংক লক্ষ্য করে পাথরটা ছুঁড়ে গাজার ওই কিশোর ইসরাইলীদের জানিয়ে দেয়, \’তোমাদের অস্ত্রের চেয়ে আমাদের সাহস অনেক শক্তিশালী।\’ এ দৃশ্যটি ক্যামেরায় ধারণ করেন বার্তা সংস্থা এপির ফটোগ্রাফার লরেন্ট রেবুর্স। অসীম সাহসী ঐ শিশুর ছবিটি সে সময় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। কিন্তু ইসরাইলী সেনারা ঐ ঘটনার ১০ দিন পর ফারিস উদেহকে  নির্মমভাবে হত্যা করে।

ছেলেটি সম্পর্কে জানতে চাইলে উইকিপিডিয়ার এই লিংক থেকে চোখ বুলিয়ে আসতে পারেন:  http://en.wikipedia.org/wiki/Faris_Odeh

রোজা পার্কের বাসের সিট না ছাড়া:

\"\"

উনিশ’শ পঞ্চাশ সালের দিকে দক্ষিন আমেরিকার আলাবামা রাজ্যের মন্টোগোমেরীতে পাবলিক-বাসের প্রথম সারির দশটি আসন সাদা চামড়ার লোকদের জন্য সংরক্ষিত রাখার নিয়ম ছিল। বাসের মধ্যে সাদা চামড়ার লোক কম থাকার কারণে প্রথম সারির দশটি সংরক্ষিত আসনের কোনোটি যদি খালিও থাকতো তবুও তাতে কোনো কালো চামড়ার মানুষের বসার অধিকার ছিল না। বরং সংরতি আসনের বেশী সাদা চামড়ার মানুষ বাসে উঠলে কালোরা তাদের আসন থেকে উঠে দাঁড়িয়ে সাদাদের জন্য বসার আসন করে দিতে বাধ্য হতো। ১৯৫৫ সালের ১ লা ডিসেম্বর ঘটলো অন্যরকম এক ঘটনা। রোজা পার্ক নামের এক কালো মহিলা বাসে কালোদের জন্য নির্ধারিত আসনে বসে তার কাজে যাচ্ছিলেন। ওদিকে সাদাদের জন্য প্রথম সারির দশটি সংরতি আসনও পূর্ণ অবস্থায় ছিল। ইতোমধ্যে বাসে উঠলেন সাদা চামড়ার আরও এক ব্যক্তি। বাসের ড্রাইভার রোজা পার্ককে তার আসন থেকে উঠে দাঁড়াতে নির্দেশ করলে রোজা পার্ক ভয় না পাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং তার আসন ছেড়ে দিতে অস্বীকার করলেন। প্রথা ভঙ্গের ফলে তাকে  গ্রেফতার করা হলো। মন্টেগোমেরীর সব কালো অধিবাসীরা রোজা পার্ককে গ্রেফতারের তীব্র প্রতিবাদ জানালেন। তারা রোজা পার্কের পক্ষে মিছিল করলেন। “রোজা পার্ক ঠিক কাজ করেছে”- বলে তারা শ্লোগান দিলেন। এখানেই শেষ নয়। সেখানকার সব কালো মানুষেরা এক বছরেরও বেশী সময় ধরে বাসে যাতায়াত করা থেকে বিরত থাকলেন। ধীরে ধীরে এ আন্দোলন সমগ্র আমেরিকায় নাগরিক অধিকারের আন্দোলনে রূপ নিল। এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই আমেরিকার মহান নেতা মার্টিন লুথার কিং এর আবির্ভাব ঘটল। আমেরিকায় কালো মানুষেরা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে গণ্য হতো এবং অনেক নাগরিক সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত ছিল। রোজা পার্কের এই সাহসী ঘটনার পর থেকে কালো আমেরিকানরা ধীরে ধীরে ভয় ঝেড়ে ফেলে তাদের নাগরিক অধিকার নিয়ে আন্দোলন শুরু করল এবং সকল ক্ষেত্রে কালো মানুষেরা যে বৈষম্যের শিকার হতো তার অবসান ঘটল। আমেরিকার কালো মানুষেরা সেখানকার সাদা মানুষদের মত সকল অধিকার ভোগের সুযোগ পেল।

রোজা পার্কের সম্পর্কে  উইকিপিডিয়ার এই লিংক থেকে চোখ বুলিয়ে আসতে পারেন:  http://en.wikipedia.org/wiki/Rosa_Parks

মার্টিন লুথার কিংয়ের বিখ্যাত আই হ্যাভ ড্রিম ভাষণ:

\"\"

১৯৬৩ সালে মার্টিন লুথার কিং  কিং এই বৈষম্যমূলক আইনের বিরূদ্ধে আন্দোলন ঘোষনা করেন। কিং তার অনুসারীদের নিয়ে দুইমাস ব্যাপী আন্দোলন চালিয়ে যান, আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল আলাবামাতে কালোদেরকেও সাদাদের সমান অর্থনৈতিক সুবিধা দিতে হবে, কালোদের সর্বত্র প্রবেশাধিকার থাকতে হবে, শিশুশ্রম বন্ধ করতে হবে।এমনি এক শান্তিপূর্ন প্রতিবাদ সমাবেশে আলাবামার পুলিশ সেই সমবেত জনতার উপর দমনমূলক নীপিড়ন চালায়, পুলিশ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জলকামান, টিয়ার গ্যাস, কুকুর লেলিয়ে দেয়াসহ সব রকম অত্যাচার করে সেই শান্তিকামী কালো জনতার উপর, শিশুরাও রেহাই পায়নি এর থেকে। মার্টিন লুথার কিং সহ আরও অনেকেই গ্রেফতার হন। এই ঘটনা খুব ব্যাপক সাড়া জাগায় সারা বিশ্বব্যাপী। সারা বিশ্ব অবাক হয়ে দেখেছিল শান্তিপূর্ন প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশের  আক্রমন!

সকল নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার চলমান আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৬৪ সালের ২৮শে অগাস্ট দাসপ্রথা বিলুপ্তির ১০০ বছর পূর্তিতে অগুনতি মানুষের সমাগম হয় ওয়াশিংটন ডিসির লিঙ্কন মেমোরিয়ালের সামনে। সাদা কালো সকল বর্ণের মানুষ এসেছিল সেদিন ঐ শান্তিপূর্ন প্রতিবাদ সমাবেশে কারন এই সমাবেশ ছিল কালোদের স্বাধীনতা বা মুক্তি এবং চাকুরীর নিশ্চয়তা সম্পর্কিত, এই সমাবেশে আমেরিকার দক্ষিনী রাজ্যের দুঃখী কালো মানুষদের হয়ে বক্তৃতা করেছিলেন মার্টিন লুথার কিং। ডঃ মার্টিন লুথার কিং ঐদিন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ, পৃথিবী শ্রেষ্ঠ বক্তৃতা করেন, যা কিনা ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’ নামে খ্যাত।

এই ভাষণে তিনি বলেছিলেন, কিভাবে বর্ণবৈষম্য গোটা জাতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, শুধু কালো আমেরিকানদের জীবনকে নয়। এরপর তিনি তুলে ধরেন ভবিষ্যতের আমেরিকা নিয়ে তার আশাবাদকে, যেখানে সব আমেরিকান হবে সমান। এটাই হবে সত্যিকারের স্বপ্নের আমেরিকা। ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’ শিরোনামের ওই ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমার একটি স্বপ্ন আছে যে একদিন জর্জিয়ার লাল পাহাড়ে, সাবেক দাসের সন্তান আর সাবেক দাস-মালিকের সন্তান একসঙ্গে ভ্রাতৃত্বের আসনে বসতে সক্ষম হবে। আমার একটি স্বপ্ন আছে যে একদিন, এমনকি মিসিসিপি স্টেটে যে ছটফট করছে অবিচারের উত্তাপে, যে ছটফট করছে নিষ্পেষণের উত্তাপে, সেটিও পাল্টে গিয়ে হয়ে উঠবে মুক্তি আর ন্যায়ের মরূদ্যান। আমার একটি স্বপ্ন আছে যে আমার ছোট চারটি সন্তান একদিন এমন একটি জাতির মধ্যে বসবাস করবে, যেখানে গায়ের রং দিয়ে আর তাদের বিচার করা হবে না, করা হবে চরিত্রগুণ দিয়ে।

এই ভাষণের প্রভাবেই ১৯৬৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার আইন ও ১৯৬৫ সালে ভোটাধিকার আইন প্রণয়ন করা হয়।আমেরিকা থেকে কাগজে কলমে, রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি ধাপে, প্রতিটি ক্ষেত্রে বর্ণ বৈষম্য দূর হয়েছে। এই মানুষটি মাত্র ৩৫ বছর বয়সেই শান্তিতে নোবেল প্রাইজ পান ১৯৬৪ সালে। প্রাইজ মানি ৫৬,০০০ ডলারের সবটুকুই দান করে দেন নাগরিক অধিকার আন্দোলন সংস্থাগুলোকে।

ভাষণটি উইকিপিডিয়ার এই লিংক থেকে পড়তে পারেন: http://en.wikipedia.org/wiki/I_Have_a_Dream

বুশকে জুতা নিক্ষেপ:

\"\"

এমন প্রতিবাদ কি আগে কখনো হয়েছিলো? ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে পৃথিবী অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করলো যুদ্ধ আর দখল দারিত্বের বিরুদ্ধে কি অসম্ভব ঘৃণা লুকিয়ে আছে সাধারণ ইরাকিদের মনে। পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাশালী মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের দিকে জুতা ছুড়ে মেরে সেটাই বিশ্বকে দেখিয়ে দেন ইরাকি সাংবাদিক আল জাইদি।

আল জাইদি সম্পর্কে:  http://en.wikipedia.org/wiki/Muntadhar_al-Zaidi

তথ্য কণিকা

A Poor Servant of Almighty🙂

Posted in সমালোচনা

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Translate
ব্লগ বিভাগ
রেফার লিঙ্কঃ

হ্যালো! এই লিংক থেকে বিকাশ অ্যাপ ডাউনলোড করে, প্রথমবার লগ ইন করুন। আপনি চলমান প্রথম অ্যাপ লগ ইন বোনাসের সাথে ২০টাকা এক্সট্রা বোনাস পাবেন। শর্ত প্রযোজ্য। ডাউনলোডঃ

https://www.bkash.com/app/?referrer=uuid%3DC1DPI569J

 

 

ব্লগ সংকলন
Follow Aimnote.TK on WordPress.com
%d bloggers like this: