আল্লাহ্‌, ইহুদীদের হাত থেকে ফিলিস্তিনিদের রক্ষা করুন

রাস্তায়  একটা  নিরহ লোককে দেখে আপনার মায়া হল, আপনি নিজ থেকেই তাঁর সম্পর্কে সব কিছু জিজ্ঞেস

করে জানতে পারলেন।

লোকটি নিঃস্ব, তাঁর ঘর বাড়ি কিছুই নেই।

এই অবস্থায়  একটা বিপদগ্রস্ত  মানুষকে  ফেলে যেতে আপনার বিবেকে বাঁধা দিচ্ছে।

তাই আপনি  অসহায়  মানুষটাকে  আপনার বাসায় থাকতে দিলেন।

তাঁর জন্য  আপনার ছোট বাসায় আপনার বিছানাটাও  ছেড়ে দিলেন।

কয়েক সপ্তাহ যাওয়ার পর ওই লোকটি  আপনাকে জিজ্ঞেস না করে আরও  ১০ জন  উদ্বাস্তু, আশ্রয়হীন   লোককে  নিয়ে  আপনার ছোট বাসায় উঠলো।

এর পর দিন তাঁরা সবাই মিলে আপনাকে গলাধাক্কা দিয়ে বাসা থেকে বের করে দিল। এবং  আরামসে তাঁরা আপনার বাসায় থাকতে লাগলো।

আর আপনি   বাসার  গিইটের এক  কোনে বসে  আমার বাড়ি, আমার বাসা, আমার ঘর বলে    বুক ফাটিয়ে কাঁদতে লাগলেন।

আপনার প্রতিবেশীরা আপনার এই করুন অবস্থায় নীরব।

আপনার কোন দোষ নেই।

একটা   উদ্বাস্তু আশ্রয়হীন লোককে   আশ্রয় দিতে গিয়ে আজ আপনাকে  আশ্রয়হীন হতে হল।

আপনার  এক সময়ের  ভাল মানুষিতা এবং বিবেকের বাঁধাটা আজকের কাঁটা হয়ে আপনার সর্বস্ব  কেড়ে নিল।

এখন আপনি আপনার প্রিয় বাড়িটি   ফিরে পাবার জন্য সংগ্রাম করছেন।

আপনার মতো এই রকমের পরিস্তিতিতে আজকের  ফিলিস্তিনির জনগন।

প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের পর প্যালেস্টাইন বা ফিলিন্তিন সহ বেশির ভাগ আরব এলাকা চলে যাই  ইংল্যান্ড  এবং ফ্রান্স এর অধীনে,

১৯১৭ সালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর  গোপনে ইহুদিবাদীদের কাছে লেখা এক  চিঠিতে  তাদের জন্য একটি আলাদা  ইহুদি  রাষ্ট্র গড়ে দেওয়ার  প্রতিশ্রুতি দেন।

এই গোপন বার্তায়  উল্লেখিত  প্রতিশ্রুতির কারনে ফিলিস্তিন এলাকায় ইহুদীদের আলাদা একটা রাষ্ট্র জন্য তাদের ভিতর এক ধরনের মরীয়া ইচ্ছে এবং  সম্ববনার   সৃষ্টি হয়।

এবং বিপুল সংখ্যক ইহুদি ইউরোপ থেকে ফিলিস্তিন এসে বসতি  গড়তে থাকে।

১৯০৫ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিনে  ইহুদির সংখ্যা ছিল মাত্র হাতে গুনা কয়েক শত জন।

কিন্তু ১৯১৪ সাল থেকে প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ শুরু হবার পর থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ দের সহায়তায় ফিলিস্তিনে ইহুদির সংখ্যা বেড়ে ২০ হাজার এর অধিক হয়।

এর পর   প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনে ইহুদি অভিবাসীদের ধরে এনে জড়  করা শুরু হয়। এভাবে ১৯১৯ থেকে ১৯২৩ সাল নাগাদ ফিলিস্তিনে ইহুদির সংখ্যা ৩৫ হাজারে  উন্নীত হয়।

১৯৩১ সালে ইহুদীদের সংখ্যা  প্রায় ৫ গুন  বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৮০ হাজারে  পৌঁছায়।

এভাবে  ফিলিস্তিনে ইহুদি অভিবাসির সংখ্যা  ব্যাপকহারে বাড়তে থাকে।

১৯৪৮ সালে সেখানে ইহুদীর সংখ্যা ৬ লাখে উন্নীত হয় যা কিনা     ফিলিস্তিন দেশের নিজেদের মুসলিমদের তুলনায় বেশী।

১৯১৮ সালে  ব্রিটেনের  সহযোগিতায়   গুপ্ত ইহুদি  বাহিনী “ হাগানাহ” গঠিত হয়।

এই বাহিনী ইহুদিদের  অবৈধ রাষ্ট্র তৈরির কাজে  প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন।

মূলত এই বাহিনী  গঠনের  উদ্দেশই ছিল এইটা ।

ফিলিস্তিনি জনগনের  বিরদ্ধে ইহুদীদের সহায়তা করা তাদের কাজ হলেও পরবর্তীতে “হাগানাহ” একটি সঙ্গবন্ধ   সন্ত্রাস বাহিনিতে পরিনিত হয়।

ফিলিস্তিনি জনগনের বাড়িঘর ক্ষেত খামার দখল করে এবং বাজার ও রাস্তা ঘাঁটেসহ জনসমাবেশ এর  জায়গায় বোমা  বিস্ফুরন ঘটিয়ে নিরহ ফিলিস্তিনদের মধ্যে  আতংক   সৃষ্টি করে তাদের বিতাড়ন করা ছিল  “ হাগানাহ” বাহিনীর মুল কাজ।

২য় বিশ্ব যুদ্ধের পর ১৯৪৭ সালে  জাতিসংগের  সাধারন পরিষদে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডকে দ্বিখণ্ডিত করার প্রস্তাব গ্রহন করা হয়।

জাতিসংঘ  এই  প্রস্তাব পাশ করে  ফিলিস্তিনকে   মাতৃভূমির ৪৫ % তাদের নিজেদের(ফিলিস্তিনি জনগনের)  এবং ৫৫ % ভুমি ইহুদীদের হাতে ছেঁড়ে দেয়ার  আদেশ দেয়।

আর এইভাবে ১৯৪৮ সালে ১৪ মে ইসরাইল নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এবং  ইতিহাসে প্রথম  অন্যদেশ এবং  জাতিংগের প্রত্যক্ষ  সহযোগিতায় ইসরাইল নামে  নুতন একটি  সম্পুন   অবৈধ  দেশ তৈরি হয়।

ইসরাইল পশ্চিম এশিয়ার ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকুলে অবস্থিত।

ইসরাইলের অর্থনীতি  আধুনিক  ইউরুপের দেশের সমপর্যায়ের।

ইসরাইলের নিজস্ব সম্পদের পরিমান  কম।

এই  অবৈধ  দেশের জন্মই হয়েছে  ব্রিটিশ,আমেরিকা এবং জাতিসঙ্গের হাত ধরে।

১৯৭০ এর দশক থেকে মার্কিন  যুক্তরাষ্ট্র এর কাছ থেকে  বিপুল পরিমান আর্থিক অনুদান পেয়ে আসছে।

এবং এখনো এইটার  দ্বারা অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্বের ৫০ টি মুসলিম রাষ্ট্র এর প্রায় ৩০ টি দেশ ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসাবে এখনো স্বীকৃতি দেয় নাই।

এই অবৈধ ইসরাইল এর  ফিলিস্তিনের ৫৫ % ভুমি পেয়েও তাদের আশা মিটে নাই।

ফিলিস্তিনের ৪৫ % ভুমি(গাজা উপত্যকা, পশ্চিম তীর ও গোলান মালভূমি) দখলের জন্য প্রতিনিয়ত ফিলিস্তিনের নিরহ মুসলিমদের নির্বিচারে হত্যা করে যাচ্ছে এই অবৈধ ইসরাইল  সরকার

Advertisements

Ainul Islam munna. student.living in Chittagong, Bangladesh. fan of technology, photography, and music.interested in cricket and travel.

Posted in টুকরো লেখা

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

ব্লগ বিভাগ
ব্লগ সংকলন
%d bloggers like this: