মুসলিম বিজ্ঞানী জাবির ইবনে হাইয়ান

মুসলিম বিজ্ঞানী জাবির
ইবনে হাইয়ান

10268433_1419047081700082_6541929056854236521_a

বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ্বে বর্তমানে আমরা
মুসলিমরা অত্যাধিক সংখ্যা লঘু!! যার
কারণে অনেক মুসলিম সন্তান আজ
হীনমন্যতায় ভুগছে। অনেকে এই
ভেবে ব্যাথিত হয়
যে “প্রযুক্তি বিশ্বে আমরা কত
পিছিয়ে। বিজ্ঞানে আমরা কত কাচা।”
কিন্তু সত্যি কি তাই?
আমরা কি সত্যি বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ্বে পিছিয়ে?
যদি আমি বলি “বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ্বে আমাদের অবদান সেই
১০০০ বছর আগে থেকে!”
তাহলে কি আপনি কিংবা আপনারা
বিশ্বাস করবেন? হ্যা, আমাদের
হীনমন্যতায় ভুগার কোনো কারণ নেই।
কারণ মুসলিমরাই এক সময়কার
বিজ্ঞানের ইতিহাসের প্রতিষ্ঠাতা।
এমনকি ইসলামী সভ্যতা যে বিশ্বের

উন্নতির সর্বক্ষেত্রে সৃজনশীলতা ও
আবিষ্কারের জনক, তা এক ঐতিহাসিক
সত্য। ভূগোলবিদ থেকে শুরু করে রসায়ন,
পদার্থবিজ্ঞান, জৈববিজ্ঞান,
যুদ্যবিদ্যা থেকে শুরু
করে চিকিৎসা বিজ্ঞানে মুসলিমরাই
ইতিহাসের পাতা আলোকিত
করে রেখেছে। মুসলিমদের এই অবদানের
কথা না হয় আরেক দিন বলি। আসুন
আজকে বর্তমান বিশ্বের রসায়নের জনক
মনীষী “বিজ্ঞানী জাবির
ইবনে হাইয়ান” সমন্ধে কিছু জানি।
এবং জানি মুসলিমদের রসায়নময়
স্বর্নযুগ।
জাবির ইবনে হাইয়ান এর পূর্ণ নাম আবু
আবদুল্লাহ জাবির ইবনে হাইয়ান।
তাকে আল হাররানী এবং ‘আস্ সুফী’
নামেও অভিহিত করেন। ৭২২
খ্রিস্টাব্দে কুফা শহরে তার জন্ম।
বাল্যকাল থেকে পড়া লেখার প্রতি এই
জনক আরবে তার শিক্ষা জীবন শুরু
করেন। গণিত শাস্ত্রে তার
পারদর্শিতা সেই ছোট কাল থেকেই।
শিক্ষালাভ শেষ হলে তিনি পিতার
কর্মস্থান কুফা নগরীতে গিয়ে বসবাস
করেন।
সেখানে তিনি প্রথমে চিকিৎসা
ব্যবসায় আরম্ভ করেন। এ সূত্রেই
তৎকালীন বিখ্যাত পন্ডিত ইমাম জাফর
সাঢিকের অনুপ্রেরণায় তিনি রসায়ন ও
চিকিৎসা বিজ্ঞানে গবেষণা শুরু
করেন। আর অল্প সময়ে রসায়ন ও
চিকিৎসা বিজ্ঞানী হিসেবে সুনাম
ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। ইমাম জাফর
সাদিকই জাবিরকে বারমাক বংশীয়
কয়েকজন মন্ত্রীর সাথে পরিচয়
করিতে দেন। একবার ইয়াহিয়া বিন
খালিদ নামক জনৈক বারমাক মন্ত্রীর
এক প্রিয় সুন্দরী দাসী মারাত্মক
ব্যাধিতে আক্রান্ত হন। অনেক
সুপ্রসিদ্ধ চিকিৎসকরা তার
চিকিৎসা করতে ব্যর্থ হন। এ সময়
মন্ত্রী প্রাসাদে জাবির
ইবনে হাইয়ানের ডাক পড়ে। মাত্র
কয়েক দিনের ব্যবধানে জাবির
তাকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ
করে তোলেন। এতে মন্ত্রীর
সঙ্গে বন্ধুত্বে গড়ে ওঠে। বারমাস
বংশীয় কয়েকজন মন্ত্রীর মধ্যস্থতায়
তিনি রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা লাভ
করতে সক্ষম হন। এর ফলে তিনি রসায়ন
বিজ্ঞান সম্পর্কে ব্যাপক
গবেষণা চালাতে থাকেন।
তিনি বিভিন্ন বিষয়ে নতুন নতুন তথ্য ও
বিভিন্ন পদার্থ আবিষ্কার করেন। এর
ফলে শ্রেষ্ঠ রসায়ন
বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিতি লাভ
করেন। তিনি সর্বদা হাতে কলমে কাজ
করতেন এবং পর্যবেক্ষণ করে তার
ফলাফল লিখে রাখতেন। তার মতে,
‘রাসায়নিকের সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ
কাজ
হলো হাতে কলমে পরীক্ষা চালানো’।
অধিকাংশ সময়
তিনি বাগদাদে কাটিয়েছেন।
তিনি অষ্টম শতাব্দীর শেষ
দিকে বাগদাদেই রসায়ন ও
চিকিৎসা বিজ্ঞানে তাঁর
গবেষণা করতে থাকেন।
এখানে তাঁর গবেষণাগার ছিল। তাঁর
অবদান মৌলিক।
তিনি বস্তুজগতকে প্রধানত
তিনটি ভাগে বিভক্ত করেন, প্রথম
ভাগে স্পিরিট, দ্বিতীয় ভাগে ধাতু
এবং তৃতীয় ভাগে যৌগিক পদার্থ। তাঁর
এ আবিষ্কারের উপর ভিত্তি করেই
পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা বস্তুজগতকে
তিনটি ভাগে ভাগ করেন, বাষ্পীয়,
পদার্থ ও পদার্থ বহির্ভূত। জাবির
ইবনে হাইয়ানই সর্বপ্রথম নাইট্রিক
এডিস আবিষ্কার করেন।
এছাড়া সালফিউরিক এসিড আবিষ্কার
করেন। তিনি তাঁর ‘কিতাবুল
ইসতিতমাস’ গ্রন্থে নাইট্রিক এসিড
তৈরির ফর্মূলা বর্ণনা দেন।
মুসলিমদের গর্ব এই মহা মনীষীর শুধু
যে বিজ্ঞানকে পৃথিবীর কাছে প্রমান
করে দিয়ে গেছেন তা নয়।
তিনি মুসলিমদের ধর্ম ইসলামকেও
পৃথিবীতে আলোক দৃপ্ত করে গেছেন।
আর গ্রন্থ গুলোতে তিনি সাজিয়েছেন
কোরআনের সাথে বিজ্ঞানের
সামঞ্জস্য বজায় রেখেই। তার গ্রন্থ
গুলোর মধ্যে তাই প্রমান পাওয়া যায়।
নাইট্রিক এবং সালফিউরিকের
প্রতিষ্ঠাতা তার আবিস্কার
গুলো গ্রন্থায়নও করে গিয়েছেন। তার
রসায়নের গ্রন্থ গুলো হল, “১. কিতাব
তাকদিমাতুল মারিফা ২. কিতাবুল
মাখদাল ইলাস সানায়াতে ৩. কিতাবুল
বুরহান ৪. কিতাব কিমানুল মাআদীন ৫.
কিতাবুর রুকন ৬. কিতাবুল আহজার ৭.
কিতাবুল হারজিল হাককিল আজম ৮.
কিতাবুল হাজর ৯. কিতাবুল তাদবিরির
হুকামায়েল কুদামা ১০. কিতাবুল
খাওয়াসিল ইকমিরিজ জাহান ১১.
কিতাবুত তাদাবিরির রাইয়া ১২.
কিতাবুল মিহনাহ ১৩. কিতাবুল আসরার
১৪. কিতাবুল খাওয়াস।”
ইবনে আল নাদিমের ‘কিতাব আল
ফিহিরিস্ত’ গ্রন্থের
তথ্যানুযায়ী জাবির রসায়নশাস্ত্রের
পুস্তক ছাড়াও চিকিৎসাবিজ্ঞানের
গ্রন্থসহ অন্যান্য বিভিন্ন
বিষয়ে গ্রন্থাদি রচনা করেছেন।
বিজ্ঞানির লেখা গুলো শুধু তার
নিজের ভাষায়তো আছেই
সাথে সাথে অন্যান্য ভাষায়ও তার বই
রচিত হয়।
তার শিক্ষা এবং গবেষনা যে রসায়ন
কিংবা চিকিৎসা বিজ্ঞানের
সাথে সম্পর্কিত ছিল তা নয়।
তিনি গুপ্ত বিদ্যায় বেশ ছিলেন। এর
প্রতিও তার ছিল প্রবল আগ্রহ। “আল
কেমি” হচ্ছে সেই রকম গুপ্তবিদ্যা, যার
দ্বারা মানুষ “এলিক্সির”
নামে একটি যাদুকরী বস্তু
তৈরী করতে সক্ষম হবে। আর এই
এলিক্সিরের ছোঁয়ায়
লোহা হয়ে যাবে সোনা,
তামা হয়ে যাবে রূপা, আর মানুষের আয়ু
যাবে বহুগুন বেড়ে!!
লোহা থেকে সোনা বানানো কিংবা
জীবনকে দীর্ঘায়িত করার বাসনাই
ছিল আল কেমী বিদ্যার মূল উদ্দেশ্য।
আলকেমী বহু
আগে থেকে চলে আসা একটি বিষয়,
পৃথিবীর মানুষ
লোহা থেকে সোনা বানানোর অসম্ভব
চেষ্টা প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই
করছে। আল কেমী বিদ্যাটিকিছুটা গুপ্ত
হওয়ায় জাবেরের বইগুলোও
অনেকটা রূপক ভঙ্গীতে লেখা। আল
কেমি
বিষয়ে লেখা তার বই “কিতাব আল
জোহরা”তে তিনি লিখেছেন, “আল্লাহ
যাদের ভালবাসেন তারা ব্যাতীত
বাকীদের হতভম্ব করা এবং ভুল
পথে নেয়াই এর উদ্দেশ্য।”
আবার এই জাবিরই লিখেছেন, “আমার
“মাস্টার” আমাকে শাসাচ্ছেন,
যাতে এসব বিদ্যা কোন অবিবেচকের
হাতে না পড়ে।” আলকেমীর
বিদ্যা গুপ্ত রাখার মানসিকতায়
তিনি বইসমূহ লিখেছেন সাধারণ
যাতে সহজ বুঝতে না পারে সেই
দৃষ্টিকোন্ থেকে।
একসময় আল কেমীর চর্চা ও অনুশীলন
থেকে জাবির আবিষ্কার করলেন অনেক
কিছু। তিনি আবিষ্কার করেন
কি করে তরলের মিশ্রন
থেকে একটি তরলকে আলাদা করা যায়,
যা ডিস্টিলেশন নামে পরিচিত,
আবিষ্কার করেন
একুয়া রেজিয়া নামে একটি মিশ্রন
যা সোনাকে গলিয়ে দিতে সক্ষম
এবং উদ্ভাবন করেন অগুনতি কেমিক্যাল
সাবসট্যান্স – যা মরিচা প্রতিরোধ,
স্বর্নের কারুকাজ, পোশাকের
ওয়াটারপ্রুফ সহ বিভিন্ন শিল্প
কারখানায় ব্যবহৃত হয়। আল
কেমী থেকে তিনি সিস্টেমেটিক
এক্সপেরিমেন্টেশনের দ্বারা শুরু করেন
আরেকটি বিষয়, যা পরিচিতি লাভ
করে কেমেস্ট্রি হিসেবে।
বিজ্ঞান বিশ্বে তার আরো কিছু
অবদান না বললেই নয়। তাঁর মতে,
‘রাসায়নিকের সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ
কাজ
হলো হাতে কলমে পরীক্ষা চালানো’।
তিনি বস্তুজগতকে তিনটি ভাগে বিভক্ত
করেন, প্রথম ভাগে স্পিরিট, দ্বিতীয়
ভাগে ধাতু এবং তৃতীয় ভাগে যৌগিক
পদার্থ। এই সকল অবদান ছাড়াও
নাইট্রিক আর সালফিউরিকের
প্রতিষ্ঠার আরো অবদান, অভিজ্ঞতা,
গবেষনা রয়েছে। যার মাধ্যমে এই
প্রমান হয় যে ইসলামের
ইতিহাসে আমরা ছিলাম বিজ্ঞানময়।
আমরা আমরা মুসলিমরাই ছিলাম
বিজ্ঞান বিজ্ঞানের ধারকবাহক।
আমরাই ছিলাম বিজ্ঞানের আদি।
কিন্তু এই ভেবে আমরা এখনো হতাস হই
যে এখন আমরা সেই আগের
অবস্থানে নেই কেন? যথাযথ উত্তর
হিসেবে আমরাই এটাই
বলতে পারি আমরা আল্লাহ বিমুখ
হয়ে কর্ম দক্ষতা থেকে মুখ
ফিরিয়ে নিয়েছি। জাগতিক কাজ
থেকে নিজেকে বিরত রেখেছি। তাই
আমাদের এই অধপতন। যদি আমরা চাই
তাহলে আমরাই
আগামি পৃথিবীকে আগের ন্যায়
বৈজ্ঞানিক
ভাবে দেখিয়ে দিতে পারবে আমরাই
ছিলাম বিজ্ঞানের আদি। আমরাই
ছিলাম বিজ্ঞানের প্রথম। আজ এ
বিজ্ঞান সমন্ধে তোমাদের এই
গবেষনার শুরু ছিলাম আমরা।
আমরা মুসলিমরাই।
লেখার সহযোগি, তথ্য দান, এবং পুর্ণ
উৎসাহ পুরোটাই আমার বন্ধু মহল,
বিজ্ঞানী.অর্গ, এবং সাধের গুগল
থেকে পাওয়া। তাই সকলে আমার
ভালবাসা পূর্ণ ধন্যবাদ। আর ধন্যবাদ
ইসলামের সেই স্বর্নালী যুগকে,
যে যুগের
কারণে পেয়েছি একটি মুসলিমদের
ইতিহাস।

Advertisements

Ainul Islam munna. student.living in Chittagong, Bangladesh. fan of technology, photography, and music.interested in cricket and travel.

Posted in জীবনী

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

ব্লগ বিভাগ
ব্লগ সংকলন
%d bloggers like this: