সেলিব্রেটি হতে চাই, কিন্তু এর জন্য যে সাধনা প্রয়োজন তা করতে চাই না।

“প্রজাপতি এবং শুয়াপোকা একই প্রাণী।” কি অদ্ভূত তাই না? দুটো তে এত পার্থক্য!
অথচ এই কদাকার শুয়োপোকটি ধীরে ধীরে বর্ণিল প্রজাপতিতে রূপান্তরিত হতে থাকে।
এই পরিবর্তন রাতারাতি হয় না। একটি কষ্টকর ও সময় সাপেক্ষ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সে তার বাইরের আবরণ ফেলে দিয়ে নিজেকে একটি খোলসের মধ্যে আবদ্ধ করে।
তারপর জৈবিকতার সকল শৃঙ্খল ভেঙ্গে শুয়াপোকা মুক্ত প্রজাপতিতে রূপান্তরিত হয়।
আসলে শুককীট বা শুয়াপোকা জৈবিকতার সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ। পা আছে কিন্তু গতি নেই। আর প্রজাপতি সেই জৈবিকতার সীমাবদ্ধতা অতিক্রান্ত করে উড়ে বেড়ায় মুক্তির আনন্দে। এজন্যই এত পার্থক্য।
আমাদের যদি বলা প্রজাপতি এবং শুয়াপোকার জীবনের মধ্যে একটি বেছে নিতে। আমরা নির্দ্বিধায় প্রজাপতির মুক্ত-স্বাধীন জীবনই বেছে নিবো। চাইবো প্রজাপতির মত নিজের জৈবিকতার সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে মনের আনন্দে উড়তে। কিন্তু এটা কি সম্ভব? প্রজাপতি যেমন তার সকল সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে মুক্তির স্বাদ পেয়েছে; আমাদের পক্ষেও কি সম্ভব নিজেদের সমস্যা-সীমাবদ্ধতাগুল­ো অতিক্রম করা? চেষ্টা তো করি, কিন্তু….
আসলে নিজের অনন্যতা প্রকাশে নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতেই হবে। এই সীমাবদ্ধতা হতে পারে একান্তই নিজের, হতে পারে পরিবার থেকে সৃষ্ট বা হতে পারে পারিপার্শ্বিক বা সামাজিক প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট। কারণ যাই হোক, এ সকল সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে হবে আমাদের নিজেকেই। আপনি ইতিহাসের দিকে তাকান, যারাই সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে পেরেছেন তারাই স্মরনীয় হয়ে আছেন। প্রতিটি মহামানবদের জীবন পর্যোলোচনা করুন। তাদের জীবন আসলে একের পর এক সীমাবদ্ধতা অতিক্রমের জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত।
আসলে আমরা সাধারণ মানুষকে তুলনা করতে পারি শুককীট বা শুয়াপোকার সাথে। কারণ তারা জৈবিকতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ। আর তাহলে আমরা কি? প্রজাপতি? উহু, আমরাও শুয়াপোকার অবস্থানেই আছি। কিন্তু… অন্যদের সাথে আমাদের একটি মৌলিক পার্থক্য আছে- আমরা শুয়াপোকা তবে আমরা প্রজাপতি হতে চাই। পেতে চাই প্রকৃত মুক্তির স্বাদ।
আমরা প্রজাপতির জীবন পর্যালোচনা করলে দেখতে পাই- সে শুয়াপোকা থেকে প্রজাপতিতে রূপান্তরিত হয় মূককীট পর্যায়ের মধ্য দিয়ে এবং এই পার্যায়টি তার জীবনের সবচেয়ে কষ্টকর, ধৈর্য্যের ও বিরক্তিকর সময়।
আমরা আমাদের জীবনে এই মূককীট পর্যায়কে, সাফল্যের জন্য প্রস্তুতি ও নীরব সাধনাকে এড়িয়ে চলতে চাই। কারণ এটি কষ্টকর।
“আমরা সেলিব্রেটি হতে চাই, কিন্তু এর জন্য যে সাধনা প্রয়োজন তা করতে চাই না।”
আসলে সফল মানুষদের জীবনীও অনেক সময় আমাদের বিভ্রান্ত করে। যেমন আমরা অনেক সময় বলে থাকি, বিল গেটস তো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বের হতে পারেনি, অথচ তারপরও সে বিশ্বের সবচেয়া ধনী ব্যক্তিতে পরিনত হয়েছিল। স্টিভ জব বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া ছেড়ে দিয়েছিল তারপর অ্যাপল কম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু তাদের এই বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া এবং সফল হওয়ার মধ্যে যে বিশাল কষ্টের ও পরিশ্রমের গল্প (মূককীট পর্যায়!) আছে সে বিষয়ে আমরা সচেতন না। আমারা মনে করি তারা রাতারাতি সফল হয়েছেন এবং আমরা হতে চাই।
কিন্তু এটা সম্ভব না। প্রতিটি বিষয়ের একটা গ্রামার আছে। সেটা আপনাকে ফলো করতে হবে। মূককীট পর্যায় আসলে আমাদের উড়ার জন্য প্রস্তুত করে, তৈরী করে সীমাবদ্ধতা অতিক্রমে লড়াইয়ে। এই অংশটি যদি আমরা বাইপাস করি তাহলে উড়ব কি ভাবে? কেউ যদি আকাশে নিয়ে যেয়ে ছেড়েও দেয় ভেসে থাকা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। মুখ থুবড়ে পড়ব।
সংগ্রহীত

Advertisements

Ainul Islam munna. student.living in Chittagong, Bangladesh. fan of technology, photography, and music.interested in cricket and travel.

Posted in কপি-পেস্ট

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

ব্লগ বিভাগ
ব্লগ সংকলন
%d bloggers like this: