“টুনটুনি ও কুনোব্যাঙ”==”সরকার ও হরতাল”

অনেক দিন আগের কথা,যখন হাফপ্যান্ট
পরতাম।তখন বাঙলা বইয়ে একটা গল্প
ছিল।সেটা হতে পারে চতুর্থ
শ্রেণিতে থাকাকালীন সময়ে।গল্পটির
নাম ছিল “টুনটুনি ও কুনোব্যাঙ”। এই
গল্পের ভিলেন ছিলেন কুনোব্যাঙ ।
অন্যকে সবসময় ভীত রাখার জন্য
বানিয়ে কথা বলত কুনোব্যাঙ।
কুনোব্যাঙ একদিন বলল আসছে শনিবার
ঝড় হবে।
শনিবারে একটু বাতাস শুরু হতেই
টুনটুনি দিশেহারা্। নিরাপদ আশ্রয়ের
জন্য সে রংরাং পাখির বিশাল
মুখকে গর্ত ভেবে ঢুকে পড়ে।
এতে করে রংরাং পাখি ভয়ে গগনবিদারী চিতকার
দেয়। শুনে হরিণ ভোঁ দৌড় দেয়।
এতে করে অজগরের লেজে খুঁড়ের
আঘাত লাগে। অজগর লেজের ব্যাথায়
কোঁকাতে কোঁকাতে পাশে পিপড়ার
বাসা ভেঙ্গে দেয়। পিপড়া হাতির
শুঁড়ে কামড় বসিয়ে দেয়। হাতি রাগ ঝাড়ার
জায়গা না পেয়ে শেষমেষ পাহাড়ে বুড়ির
জুম ধান নিমিষে সাবাড় করে দেয়। পরের
ঘটনা সবার জানা। কুনোব্যাঙ এর
শাস্তি হয়। বাচ্চাদের এই গল্পের
শিক্ষা হচ্ছে মিথ্যা না বলা এবং নিজের
রাগ অন্যের উপর না ঝাড়া।
প্রাণী জগতের এই রকম আচরণ মানুষের
মাঝেও লক্ষ্ করা যায়।
যে কোনো অজুহাতে মানুষেরা হরতাল
দেয়।
কারনে অকারনে হরতাল দেয়া হয়।
এটা নাকি গণতান্ত্রিক অধিকার।
যে জন্য হরতাল দেয়া হয় তা কি আদায়
হয়? উত্তর হবে না,আদায় হয়না।
তাহলে হরতাল কেন? হরতাল
হচ্ছে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন করার
একটি মাধ্যম। হরতাল যদি জনগণের
জন্য হয় তাহলে জনগণের
সংজ্ঞা পাল্টাতে হবে। যারা রাজনীতির
সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত তারাই
হবে জনগণ। হরতালে সাধারণ মানুষের
উপকার হয় এমন নজির পাওয়া দুষ্কর।
হরতালে বিশ্বজিতের মতো সাধারণ
মানুষ লাশ হয়ে ফেরে,জীবনের ভয়ে মানুষ
কাজকর্মে যোগ দিতে পারে না,রাস্তায়
গাড়ি চলতে পারে না। আরও কত কল্যান
বয়ে নিয়ে আসে হরতাল!!!
তাহলে কি হরতাল হবে না,অবশ্যই
হবে কারণ এটি একটি গণতান্ত্রিক
অধিকার। হরতাল না থাকলে সরকার
স্বৈরতান্ত্রিক হতে পারে। তাই
জনগণের স্বার্থে হরতাল আবশ্যক।
সাধারণ জনগণকে এড়িয়ে হরতাল পালন
করতে হবে। হরতালকে একটি নিয়মের
আওতায় আনতে হবে। রাজেনৈতিক
দলগুলো যদি সরকারকে বেকায়দায়
ফেলতে চায়
তাহলে তারা সরকারী বিভিন্ন অফিস
ঘেরাও করতে পারে। যতক্ষন পযন্ত
দাবী আদায় না হবে ততক্ষন
তারা সেখানে অবস্থান করবে।
সেখানে তারা তাদের শক্তি প্রদর্শন
করবে বিপরীতে পুলিশ
তা ঠেকিয়ে রাখবে। রাজপথে নয়
একটি নির্ধারিত স্থানে তাদের হরতাল
পালন করতে হবে।
মনে রাখতে হবে অভিযোগ
গুলো সরকারের বিপক্ষে সাধারণ
মানুষের বিপক্ষে নয়। তার প্রমান
পাওয়া যায় হরতাল শুক্র
এবং শনিবারে দেয়া হয়না।
বৃহস্পতিবারে দিলেও আধাবেলা হরতাল
দেয়া হয়। তাই হরতালের
একটি কাঠামোবদ্ধ নিয়ম
তৈরি করা আবশ্যক। নিয়মের
মধ্যে পালন করলে জনসমর্থন
পাওয়া যাবে। হরতালের
ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়
তা উপলব্ধি করতে হবে সব দলকে কারণ
আজকে যারা ক্ষমতায় যাওয়ূার জন্য
হরতাল দিচ্ছেন তারা ক্ষমতায়
গেলে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিই পাবে।
তাই দলমত নির্বিষেষে হরতাল আইন
তৈরিতে সাহায্য করা উচিত।
সভ্যতা পরিবর্তনের
সাথে সাথে আমাদেরও হরতাল এর
মান্ধাতা আমলের নিয়ম পরিবর্তন
করতে হবে। তাই আসুন সোনার
বাংলা গড়ার জন্য আর একটু
চিন্তা করি।

Advertisements

student.living in Chittagong, Bangladesh. fan of technology, photography, and music.interested in cricket and travel.

Tagged with: , , ,
Posted in সমালোচনা

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

ব্লগ বিভাগ
ব্লগ সংকলন
%d bloggers like this: